বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনার জন্য যেন সৌভাগ্যের মঞ্চ। ইতিহাস বলছে, শেষ চারে এর আগে কখনো হারেনি আলবিসেলেস্তেরা। এই ধাপে পা রাখলেই ফাইনাল নিশ্চিত—এমনই বলছে পরিসংখ্যান।
৯৬ বছরের বিশ্বকাপ যাত্রায় শেষ চারে পাঁচবার খেলেছে আর্জেন্টিনা, প্রতিবারই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। এবার তাদের সামনে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। তবে আকাশী-নীলদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে অতীত পরিসংখ্যান।
আর্জেন্টিনা প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ১৯৩০ সালে। যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক উরুগুয়ের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।
এরপর ৫৬ বছরের অপেক্ষা শেষে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আবারো শেষ চারে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে বেলজিয়ামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা স্বাগতিক হওয়ায় সরাসরি দ্বিতীয় গ্রুপ পর্ব থেকে খেলেছিল। সে আসরে কোনো সেমিফাইনাল ছিল না। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তাই তারা ফাইনাল ৬ বার খেললেও সেমিফাইনাল খেলেছে ৫ বার।
যাহোক, ১৯৮৬ সালের পর ফের ১৯৯০ বিশ্বকাপে শেষ চারে ওঠে আর্জেন্টিনা। স্বাগতিক ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনালের সেই ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয়। তবে এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হার মানতে হয় তাদের।
২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার।
সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আবারো ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা ঘুচায় তারা।
এবার আবারো সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। দুই দলের লড়াই এমনিতেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। তার সাথেই যোগ হয়েছে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে শতভাগ সাফল্যের ইতিহাস।
আলবিসেলেস্তেরা কি সেই রেকর্ড ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে, নাকি দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ করবে ইংল্যান্ড—উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
১৫ জুলাই টেক্সাসের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।



