মেক্সিকান কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওচোয়ার অবসরের ঘোষণা

‘কখনো কল্পনাও করিনি, একটি স্বপ্ন আমাকে এত দূর নিয়ে যাবে। আজ আমি শুধু গর্বের সাথে পেছনে তাকিয়ে বলতে পারি, ধন্যবাদ। লাখো মানুষের ভালোবাসা আর এই প্রশান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, মেক্সিকোর জন্য আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গুইলারমো ওচোয়া
গুইলারমো ওচোয়া |সংগৃহীত

মেক্সিকান ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের মধ্যে অবশ্যই গুইলারমো ওচোয়ার নাম থাকবে। ২২ বছরের বর্ণাঢ্য পেশাদার ক্যারিয়ার শেষে কিংবদন্তি এই গোলরক্ষক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ৪১ বছরে পা রাখা ওচোয়া বিশ্বকাপের আগেই বলেছিলেন এটাই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। যদিও এরপরও নতুন কোনো ক্লাবের সাথে চুক্তি করে তিনি ক্যারিয়ার আরো কিছুদিন বাড়াতে পারেন, এমন জল্পনা চলছিল।

ওচোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমি আমার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে মাঠে আমার সবকিছু রেখে এসেছি। আজ আমি আমার গোলকিপিং গ্লাভস তুলে রাখছি। একজন গোলরক্ষক হওয়ার অর্থ হলো, এমনও হতে পারে যে ৯০ মিনিট ধরে তুমি অপেক্ষা করবে একটি মাত্র মুহূর্তের জন্য, যখন সবকিছু তোমার ওপর নির্ভর করবে। আর সেই মুহূর্তটি এলে কোনো দ্বিধার সুযোগ থাকে না।’

ওচোয়া মেক্সিকোর হয়ে ছয়টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছিলেন, যে কীর্তি শুধু কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি ভাগ করে নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন মেক্সিকোর প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক- ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২।

২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব আমেরিকার হয়ে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে অভিষেক হয় ওচোয়ার। সেখানে প্রথম সাতটি মৌসুম কাটানোর পর ২০১১ সালে তিনি ফরাসি ক্লাব আজাসিওতে যোগ দেন। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে খেলা প্রথম মেক্সিকান গোলরক্ষকের কৃতিত্ব অর্জন করেন ওচোয়া।

ইউরোপে তার ক্যারিয়ারে আরো ছিল মালাগা, গ্রানাডা, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ, সালেরনিতানা, এভিএস ফুটবল এবং এইইএল লিমাসলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা। এর মাঝখানে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিন বছর তিনি আবারো ক্লাব আমেরিকায় ফিরে যান।

ওচোয়া আরো লিখেছেন, ‘কখনো কল্পনাও করিনি, একটি স্বপ্ন আমাকে এত দূর নিয়ে যাবে। আজ আমি শুধু গর্বের সাথে পেছনে তাকিয়ে বলতে পারি, ধন্যবাদ। লাখো মানুষের ভালোবাসা আর এই প্রশান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, মেক্সিকোর জন্য আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি।’

এবারের বিশ্বকাপে তিনি মূলত রাউল রাঙ্গেলের বদলি গোলরক্ষক হিসেবে ছিলেন। তবে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ ১৩ মিনিটের জন্য কোচ হাভিয়ের আগিরে তাকে মাঠে নামান। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগাপ্লুত ওচোয়া নিজের ক্যারিয়ার শুরু হওয়া স্তাদিও আজতেকার গোলপোস্টে চুমু খান। এরপর হাঁটু গেড়ে বসে সতীর্থদের আলিঙ্গন গ্রহণ করেন।

গ্যালারি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার অনেক পরও ওচোয়া আরেকবার মাঠের মাঝের বৃত্তে গিয়ে দাঁড়ান নিজের বিদায়ের সেই শেষ মুহূর্তটি নীরবে উপভোগ করতে।

ক্লাব পর্যায়ে ওচোয়া ২০০৫ সালের ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে ক্লাব আমেরিকার হয়ে লিগ শিরোপা জেতেন। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজের হয়ে জয় করেন বেলজিয়ান কাপ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি মেক্সিকোকে ছয়টি কনকাকাফ গোল্ড কাপ শিরোপা জিততে সাহায্য করেন এবং ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকও অর্জন করেন। বাসস