বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও পায়ের জাদু আর নেতৃত্বের দীপ্তি একটুও ম্লান হয়নি লিওনেল মেসির। গতরাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে দুই অ্যাসিস্ট করে আবারো দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন লিওনেল তিনি।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। এগিয়ে গেছেন গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে। এদিকে এমন নৈপুণ্যের পর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক হ্যারি কেইন অকপটে স্বীকার করলেন—মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ যখন ইংল্যান্ডের দিকেই হেলে পড়ছিল, তখনই নিজের সৃজনশীলতায় ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন মেসি।
৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন মেসি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান এনজো। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তার মাপা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
মেসির দুই অ্যাসিস্টেই ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন পরাজয়ের হতাশা নিয়েও মেসির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি।
কেইন বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। তারা যখন প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে বল পায়, তখন যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে। মেসি আজ আবারো সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এর পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক। আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠের লড়াই, ফাউল ও শারীরিক দ্বৈরথই ছিল বেশি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর গর্ডনের গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড।
হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেইন বলেন, ম্যাচের শেষ দিকে কয়েক মুহূর্তের মনোযোগহীনতাই তাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে। আর সেই সামান্য সুযোগই কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।



