ইংল্যান্ডের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারেন বেলিংহ্যাম

খেলোয়াড় এবং মানুষ হিসেবে সে তখন থেকে যতটা বেড়ে উঠেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। প্রথমবার তাকে খেলতে ও অনুশীলন করতে দেখে আমি তার সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছিলাম। কিন্তু এত অল্প বয়সে সে যা অর্জন করেছে, তাতে অনেকেই ভুলে যায় সে আসলে কতটা তরুণ। আমিও কখনো কখনো ভুলে যাই।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জুড বেলিংহ্যাম
জুড বেলিংহ্যাম |ইন্টারনেট

জুড বেলিংহ্যাম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডান হেন্ডারসন। থমাস টাচেলের দল ৬০ বছরের অপেক্ষার পর প্রথম বড় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।

সাম্প্রতিক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপে কয়েকবার অল্পের জন্য শিরোপা হাতছাড়া করার পর কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ইংল্যান্ড।

কানসাস সিটির বেস ক্যাম্পে কথা বলতে গিয়ে হেন্ডারসন বলেন, চোট-আঘাতে ভরা একটি মৌসুম কাটালেও আগামী কয়েক সপ্তাহে ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম বড় প্রভাব ফেলবেন। সাবেক লিভারপুল অধিনায়ক বলেন, ২০২০ সালে ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা খেলোয়াড় অসাধারণ উন্নতি করেছেন।

হেন্ডারসন বলেন, ‘খেলোয়াড় এবং মানুষ হিসেবে সে তখন থেকে যতটা বেড়ে উঠেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। প্রথমবার তাকে খেলতে ও অনুশীলন করতে দেখে আমি তার সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছিলাম। কিন্তু এত অল্প বয়সে সে যা অর্জন করেছে, তাতে অনেকেই ভুলে যায় সে আসলে কতটা তরুণ। আমিও কখনো কখনো ভুলে যাই।’

ব্রেন্টফোর্ডেও এই মিডফিল্ডার আরো বলেন, ‘সত্যি বলতে, তাকে নিয়ে যতই প্রশংসা করি কম হবে। মিডিয়ায় তাকে নিয়ে অনেক কিছু লেখা হয়। কখনো কখনো সেগুলো পড়তে আমার কষ্ট হয়, কারণ আমি জানি এই দলের ওপর তার প্রভাব কতটা বড় এবং মাঠের বাইরে সে কতটা ভালো সতীর্থ। সে আমাদের এমন কিছু দেয়, যা সত্যিই বিশেষ কিছু।’

“আমার মনে হয়, আমাদের দলে প্রকৃত অর্থেই সে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’। ক্যারিয়ারে সে বহু বড় মুহূর্তের নায়ক হয়েছে। বড় ম্যাচের খেলোয়াড় সে। টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে। তাই এই বিশ্বকাপে বেলিংহ্যাম আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।”

মিডওয়েস্টে অবস্থিত ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ঘাঁটিতে দল পৌঁছানোর একদিন পর কথা বলতে গিয়ে হেন্ডারসন প্রধান কোচ থমাস টাচেলেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

টাচেল এর আগে পিএসজি ও চেলসিসহ ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো পরিচালনা করেছেন। গত বছরের শুরুতে তিনি ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব নেন, যার লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়।

হেন্ডারসন বলেন, ‘আমার মনে হয়, মাত্র এক বছর বা দেড় বছরের মধ্যেই তিনি অনেক পরিবর্তন এনেছেন এবং দলের মধ্যে খুব ভালো পরিবেশ ও সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন। তবে এরপর সেই পরিবেশকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব খেলোয়াড়দের। আমার মনে হয়, আমরা সেটা করতে পেরেছি। গত এক বছরে আমরা যেভাবে কাজ করেছি, তার ফলে আমাদের ভাণ্ডারে অনেক ইতিবাচক অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে এবং সেটাই আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’

ইংল্যান্ড বুধবার টেক্সাসের আর্লিংটনে গ্রুপ ‘এল’-এর প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ হবে ঘানা ও পানামা।