তুরস্কে নতুন আইনি জটিলতায় সালাহ

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে ওই আইনজীবীকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন সালাহ। প্রায় ১৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন সালাহ। এরপর বকেয়া পারিশ্রমিক আদায়ের পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন সাবেক আইনজীবী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মোহাম্মদ সালাহ
মোহাম্মদ সালাহ |সংগৃহীত

ইংলিশ ফুটবলের অধ্যায় শেষ করে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পরে নতুন যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় মোহাম্মদ সালাহ। এর মধ্যে হঠাৎ আইনি জটিলতায় পড়েছেন মিশরীয় এই তারকা। সাবেক এক আইনজীবীর পাওনা পারিশ্রমিকসংক্রান্ত মামলায় সালাহকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মিশরের একটি আদালত।

নিউ কায়রো ফার্স্ট ইনস্ট্যান্স কোর্টের সিভিল চেম্বার মামলাটির শুনানি শেষে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সালাহকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলাটি করেছিলেন সালাহর সাবেক আইনজীবী আমর ফারাগ আল্লাহ মোরসি আবদেল তাওয়াব।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে করা মামলায় তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সালাহকে বিভিন্ন আইনি, প্রশাসনিক ও পরামর্শমূলক সেবা দিয়েছেন তিনি। তবে এসব কাজের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেশাগত পারিশ্রমিক ও অন্যান্য খরচ এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালে ওই আইনজীবীকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন সালাহ। প্রায় ১৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন সালাহ। এরপর বকেয়া পারিশ্রমিক আদায়ের পাশাপাশি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন সাবেক আইনজীবী।

তবে আইনজীবীর অভিযোগ ও পাওনা পারিশ্রমিকের দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সালাহ। এ অবস্থায় আদালত তাকে ‘চূড়ান্ত শপথ’ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে সালাহকে শপথ করে বলতে হবে, সাবেক আইনজীবীর কাছে তার কোনো বকেয়া পারিশ্রমিক নেই।

নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হলে কিংবা বৈধ কারণ ছাড়া শপথ নিতে অস্বীকার করলে সেটি তার বিপক্ষে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আদালত ধরে নিতে পারে, তিনি শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এতে সাবেক আইনজীবীর পক্ষে রায় যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

সালাহর জন্য বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে সময়সূচির কারণে। নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির পাশাপাশি ত্রাবজোনস্পরের হয়ে মাঠে নামার কথা রয়েছে তার। ক্লাবটির হয়ে ১৫ আগস্ট কাসিমপাশার বিপক্ষে তার অভিষেক হতে পারে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতে হাজিরার জন্য নির্ধারিত ৬ সেপ্টেম্বরই ত্রাবজোনস্পরের ম্যাচ রয়েছে জেনচলারবিরলিগির বিপক্ষে। ফলে একই দিনে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও আদালতে হাজিরার নির্দেশ—দুই দিকই সামলাতে হতে পারে সালাহকে।

অর্থাৎ তুরস্কের ক্লাবে নতুন অধ্যায় শুরুর আগেই মাঠের বাইরের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। এখন দেখার বিষয়, ৬ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে হাজির হন কি না এবং মামলাটির পরবর্তী গতিপথ কী হয়।