চলমান বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিযান শুরুর পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে নিস্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে প্রশ্ন উঠছে তাকে নিয়ে।
সমর্থক ও বিশ্লেষকদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। এমনকি অনেকের মতে, দলীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন রোনালদো।
এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। এক সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
‘রোনালদোর অবদান পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য অসাধারণ। কিন্তু জাতীয় দলে তিনি এখন আমাদের সবার মতোই একজন সতীর্থ। এখানে সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, এটি রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য। তাদের দাবি, দেশের ফুটবলে রোনালদোর অবদান ও নেতৃত্বের কারণে তাকে আলাদা মর্যাদা দেয়া উচিত।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশের মতে, নেভেসের বক্তব্যে অসম্মানের কিছু নেই। বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে জাতীয় দলে ব্যক্তির চেয়ে দলই বড়, আর সাফল্য পেতে হলে সবাইকে সমান দায়িত্ব নিয়েই খেলতে হবে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা থামছে না। গোলের সুযোগে সতীর্থকে পাস না দেয়া, নিজে শট নেয়ার প্রবণতা ও আক্রমণভাগে একক সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে তাকে ‘স্বার্থপর’ বলেও মন্তব্য করেছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।
তবে রোনালদোর সমর্থকদের দাবি, একজন স্ট্রাইকার হিসেবে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টাই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের সমালোচনা অযৌক্তিক।
সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও এখন আলোচনায় পর্তুগাল। নকআউট পর্বের আগে এই বিতর্ক দলটির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



