যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা : সোমালিয়ায় বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন রেফারি আরতান

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না সোমালি রেফারি ওমর আরতান। দেশে ফেরার পর তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়া হয়, আর তিনি দেশবাসীকে আশা না হারানোর বার্তা দেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সোমালিয়ায় বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন রেফারি ওমর আরতান
সোমালিয়ায় বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন রেফারি ওমর আরতান |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রেফারি ওমর আরতান সোমালিয়ায় ফিরলে দেখা মেলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পান তিনি। দেশের জনগণ তাকে বিশেষভাবে বরণ করে নেয়।

কখনো বিশ্বকাপে খেলেনি সোমালিয়া। তবুও এবারের বিশ্বকাপে থাকতে পারতো দেশটি। প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছিলেন ওমর আরতান।

ফিফার চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসার পর বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন তার ভেস্তে গেছে সীমানা প্রাচীরে, যুক্তরাষ্ট্রেই প্রবেশ করতে পারেননি তিনি।

২০২৫ সালে আফ্রিকার সেরা রেফারির খেতাব জেতা ওমর আরতান বৈধ মার্কিন ভিসা নিয়েও ইস্তাম্বুল থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি। তাকে আটকে দেয়া হয়।

পরে ফিফা জানায় যে তিনি এই টুর্নামেন্টে প্রশিক্ষণ বা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিন্তু বা কী কারণে বিশ্বকাপে থাকবেন না, এই প্রসঙ্গে কিছু বলেনি ফিফা।

ফিফা কর্তৃক মনোনীত একজন বিশ্বকাপ অফিশিয়ালকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই সাথে বিশ্বকাপকে করে তুলছে বিতর্কিত।

এদিকে আরতান জানান, সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি ফিফার নথিপত্র ও নিজের রেফারিং ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ছবি দেখিয়েছিলেন, তবুও মেলেনি অনুমতি।

মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া বেশ কয়েকটি দেশের তালিকায় সোমালিয়ার নামও রয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসর কেন্দ্র করেও যে নিষেধাজ্ঞা সামলাতে পারেনি ফিফা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুধবার তিনি যখন দেশে ফেরেন, তখন তাকে স্বাগত জানাতে আদান আদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন শত শত সমর্থক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

বিমানবন্দরে পতাকা হাতে তাকে স্বাগত জানান তারা। ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে নায়কোচিত সংবর্ধনা দেয়া হয় তাকে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে যেতে না পারলেও দেশের মানুষের মন জিতে নেন আরতান।

এরপর তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ছিল। বৈধ ভিসাও ছিল। আমার মনে হয়, তাদের সমস্যা আমার দেশকে নিয়ে। যা হওয়ার হয়ে গেছে, আর সেটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল।’

‘আল্লাহ চাইলে আমি পরের বিশ্বকাপে থাকব। সোমালিয়া আমাদের দেশ- সুসময় হোক বা দুঃসময়। আমি আমাদের তরুণদের বলতে চাই, নিজেদের দেশ নিয়ে আশা হারাইও না। আমি এখন আমার দেশে আছি, আর অন্য কোথাও থাকতে চাই না।’