র্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তার বিচারে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ এক মহাদ্বৈরথ দেখতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও মরক্কো। ইতিহাস হয়তো দুই দলকে দুই মেরুতে রাখবে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন।
বিশ্বকাপে অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচটিকে। দুই দলই আছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশের মাঝে। যা ম্যাচটির উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল আজ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কোর। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪টায় মেট লাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ইতিহাস হয়তো মরক্কোকে পিছিয়ে রাখবে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটা যেভাবে পারফর্ম করছে তাতে এবারের বিশ্বকাপে অনেকের কাছেই বাজির ঘোড়া হয়ে উঠেছে ‘আটলাস লায়ন্স’রা।
গত আসরে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার ইতিহাস গড়ে মরক্কো। এবার বিশ্বমঞ্চে সপ্তমবারের মতো অংশ নিচ্ছে তারা। এমনকি আসরের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ ভাবা হচ্ছে তাদের।
১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মাঝে প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছিল মরক্কো। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠে চমক দেখালেও, ১৯৯৪ সাল তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক শক্তিশালী ফুটবল দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘আটলাস লায়ন্স’রা। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ৪৫ ম্যাচ খেলে তাদের জয় ৩৩টিতে, ড্র ১০টি আর হার মাত্র দু’টি।
বাছাইপর্বের সব ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে এসেছে মরক্কো। এমনকি চলতি বছরের শুরুতে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয় মরক্কো। র্যাঙ্কিংয়ে তারা নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো পরাশক্তিদের ওপরে।
মরক্কোকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি। তিনবারের দেখায় প্রথম দু’টি ম্যাচ হারলেও ২০২৩ সালে শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা।
অবশ্য বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড বরাবরই দুর্দান্ত। আট ম্যাচ খেলে জিতেছে সাতটিতেই, একমাত্র হারটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে।
স্বাভাবিকভাবেই ‘সি’ গ্রুপের শক্তিশালী ফেভারিট ধরা হচ্ছে সেলেসাওদের। তবে মরক্কোকে কোনোভাবেই পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। বরং দলটা পেরিয়ে যেতে পারে গত আসরের সাফল্যকেও।



