সেনেগালকে ৩–১ গোলে হারাল ফ্রান্স, এমবাপ্পের রেকর্ড

দেশমের দায়মোচণ

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিতে এখন তার প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি গোল। হয়তো এবারই হয়ে যাবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফ্রান্সের ৩ গোলের ২টিই দিয়েছেন এমবাপ্পে
ফ্রান্সের ৩ গোলের ২টিই দিয়েছেন এমবাপ্পে |সংগৃহীত

দিগভ্রান্ত শুরুর পর দারুণ প্রত্যাবর্তন। ঢিমেতালে প্রথম ঘণ্টা পেরোলেও শেষ ৩০ মিনিটেই লেখা হলো ম্যাচের গল্প। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো ফ্রান্স।

চার বছর আগের লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই ছন্দই যেন নিউ জার্সিতে নিয়ে আসলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার জোড়া গোলে বুধবার গ্রুপ আই’র ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।

সেনেগালের বিপক্ষে আজ জোড়া গোল করে ফ্রান্সের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৫৮-তে নিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। আর এতেই তিনি বনে গেছেন দেশের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা। পেছনে ফেলেছেন অলিভিয়ে জিরুকে।

এই দুই গোল নিয়ে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৪। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিতে এখন তার প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি গোল। হয়তো এবারই হয়ে যাবে।

গোলের জন্য শট কেবল একটি, আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড় মিলে প্রতিপক্ষের বক্সে বলে স্পর্শ স্রেফ একবার- প্রথমার্ধে এতটাই বিবর্ণ ছিল ফ্রান্স! হতাশ হতে শুরু করেছিলেন সমর্থকেরা।

সেই হতাশা ঝেড়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলল দলটি। সেই পুরনো রূপে ফরাসীরা। দলকে পথ দেখালেন এমবাপ্পে। ৬৬ মিনিটে এনে দিলেন প্রথম উপলক্ষ। ওলিসের দারুণ সহায়তায় গোলটি করেন তিনি।

এরপর অবশ্য জালের দেখা পেয়ে যায় প্রথম থেকে দারুণ ফুটবল খেলা সেনেগাল। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি। অফসাইডে বাতিল হয় গোল। ১-০ তে এগিয়ে থেকেই ম্যাচ জয়ের পথে ছুটছিল ফ্রান্স।

তবে গোলের দেখা পেয়ে নেশা যেন পেয়ে বসে ফ্রান্সের। ৭৯ মিনিটে বদলি নেমেই ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলা। ৮২ মিনিটে আদ্রিয়াঁ রাবিওর লম্বা করে বাড়ানো থ্রু পাস ধরে বল জালে জড়ান তিনি।

নির্ধারিত সময় শেষে ৮ মিনিট যোগ করা সময়ে রোমাঞ্চ ফেরায় সেনেগাল। একটি গোল শোধ করে দলটি। গোলটি করেন ইব্রাহিমা এমবায়ে। স্কোর তখন ২-১।

ব্যবধান কমানো যেন সহ্য হয়নি এমবাপ্পের। খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে দ্বিতীয় গোলটা আদায় করে নেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য এক শটে গোল করেন তিনি। ফ্রান্স লিড নেয় ৩-১ গোলে।

এই ব্যবধান ধরে রেখেই জিতে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। শেষ কয়েক মিনিটের ম্যাজিকেই হেরে গেল সেনেগাল। অথচ প্রথমার্ধে তাদের দাপট ছিল বেশ। ভালো কিছু সুযোগও পায় তারা। তবে কাজে লাগাতে পারেনি।

প্রথমার্ধে যেভাবে ফরাসিদের কোণঠাসা করে রেখেছিল সাদিও মানেরা। তাতে ২০০২ বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতিই যেন উঁকি দিচ্ছিল। সেবার সেনেগালের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই জুজু অতিক্রম করেছে ফ্রান্স। দীর্ঘ দুই যুগ পর সেই হারের প্রতিশোধ নিলো ফ্রান্স ও দিদিয়ের দেশম। কেননা সেই ম্যাচে ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ছিলেন দেশম। আজ নিশ্চয়ই তিনি দায়মোচনের প্রশান্তি লাভ করবেন!