নীরবে রেকর্ড গড়লেন ফরাসী কোচ দিদিয়ের দেশম

রফিকুল হায়দার ফরহাদ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
ফরাসী কোচ দিদিয়ের দেশম
ফরাসী কোচ দিদিয়ের দেশম |সংগৃহীত

চলমান বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড গড়ে আলোচনায় আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে আলোচনার আড়ালেই অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ের দেশম।

রোববার ভোররাতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার ম্যাচে জয় পায় ফ্রান্স। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোচ হিসেবে ১০টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েন দেশম। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে কোনো কোচ এ মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি।

দেশমের এই সাফল্যের যাত্রা শুরু ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সে আসরের দ্বিতীয় রাউন্ডে তার অধীনে ফ্রান্স নাইজেরিয়াকে হারায়। এরপর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা, কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ে, সেমিফাইনালে বেলজিয়াম এবং ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ফ্রান্স।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তার দল দ্বিতীয় রাউন্ডে পোল্যান্ড, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড এবং সেমিফাইনালে মরক্কোকে পরাজিত করে। চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সুইডেন ও প্যারাগুয়েকে হারিয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নেন দেশম।

টানা চারটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের দায়িত্বে থাকা দেশম ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি খেলোয়াড় ও কোচ—উভয় ভূমিকায় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। তার আগে এই কীর্তি গড়েন ব্রাজিলের মারিও জাগালো এবং জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার।

এ ছাড়া অধিনায়ক ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপজয়ী দ্বিতীয় ব্যক্তি দেশম। প্রথম ছিলেন বেকেনবাওয়ার, যিনি ১৯৭৪ সালে অধিনায়ক এবং ১৯৯০ সালে কোচ হিসেবে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতান। দেশম ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবেও দলকে শিরোপা এনে দেন।

মারিও জাগালো খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে এবং কোচ হিসেবে ১৯৭০ সালে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান। তিনি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সহকারী কোচ এবং ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার জার্মান ফুটবলের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন।