২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর ১-০ গোলের জয় শুধু আফ্রিকান দলটির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়নি, এতে লাভবান হয়েছে ‘সি’ গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দল ব্রাজিলও। মরক্কোর এই জয়ে গ্রুপের সমীকরণে কিছুটা স্বস্তির অবস্থানে চলে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে খেলা শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন মরক্কোর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি। ম্যাচের ১৪ সেকেন্ড পর বল পেয়ে ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল আদায় করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলেই স্কটল্যান্ডকে হারায় মরক্কো।
মরক্কোর সাথে ড্র করা ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচটি ছিল বিশেষ গুরুত্বের। স্কটল্যান্ড জয় পেলে গ্রুপের লড়াই আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু মরক্কোর জয়ে ব্রাজিলের জন্য গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সাথে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সুবিধাজনক প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। ‘সি’ গ্রুপের দলগুলো পরের রাউন্ডে ‘এফ’ গ্রুপের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের শুরুতেই স্কটল্যান্ডের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে যান সাইবারি। এরপর ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত লব পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শক্তিশালী শটে জাল কাঁপান তিনি। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান সেই শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি। এই গোলের মাধ্যমে সাইবারি আফ্রিকার দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড। অ্যান্ডি রবার্টসনের ক্রস থেকে জন ম্যাকগিন পোস্টের সামনে বল পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে ৫২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে বিলাল এল খানুসের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন অ্যাঙ্গাস গান।
শেষদিকে সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় স্কটল্যান্ড। তবে পাল্টা আক্রমণে মরক্কোও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে সাইবারির প্রথম মিনিটের গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করেছে মরক্কো। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে।



