কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিক হলো না ভিনিসিউস জুনিয়রের। তবে জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দিয়েছেন তিনি। তাতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে যাচ্ছে সেলেসাওরা। বড় প্রাপ্তি নেইমারের মাঠে নামা।
মায়ামি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে সেলেসাওরা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে সি গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে সেরা ৩২ এ খেলবে তারা।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচেও ব্রাজিলকে পথ দেখান ভিনিসিউস। টানা তিন ম্যাচে গোলের দেখা পান তিনি, স্কটিশদের বিপক্ষে আদায় করে নেন জোড়া গোল।
তার গোলেই ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৭ম মিনিটে ম্যাককেনার বিপদ এড়াতে বল ক্লিয়ার করতে গেলে তার পাস ব্লক করেন রায়ান। বল চলে যায় ভিনির কাছে। যা জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি।
এই গোলে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন ভিনি। তৃতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল পেলেন তিনি। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে এমন কীর্তি গড়েন রোনালদো ও রিভালদো।
২২ মিনিটে স্কটল্যান্ডের জালে আরো একবার বল পাঠান ভিনিসিউস। বুদ্ধিদীপ্ত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর ফাউল দেখিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
ফলে স্কোর ২-০ করতে সেলেসাওদের অপেক্ষা করতে হয় প্রথমার্ধের যোগ করা সময় পর্যন্ত। যোগ করা সময়ের ৩য় মিনিটে ফের উপলক্ষ এনে দেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে হেডে দ্বিতীয় গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। গোল করেই কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে নিজ ভঙ্গিতে একটু নেচে নেন ভিনি। গ্যালারিতে উল্লাসে মাতে সেলেসাও সমর্থকেরা।
এরপর বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতির পর বেশ কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান কুনিয়া। তবে এই গোলে ভালো অবদান ছিল গিমারাইসের।
মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে কয়েকজনকে কাটিয়ে কুনিয়াকে দেন তিনিই। যা জালে জড়াতে সমস্যা হয়নি কুনিয়ার।
৭২ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায় স্কটিশরা। কিন্তু গোলমুখের সামনে থেকে অবিশ্বাস্যভাবে জালের দেখা পাননি ম্যাকটমিনে, উড়িয়ে মারেন পোস্টের উপর দিয়ে।
ম্যাচের শেষ দিকে আরো একবার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেনে তিনি। তাতে আর জালের দেখা পাওয়া হয়নি স্কটল্যান্ডের। ব্রাজিলও অবশ্য আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি।
ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ৭৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে প্রত্যাবর্তন হয় তার। করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান সমর্থকেরা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। যদিও প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে মাঠে তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে তার ফেরাটাই ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির।



