মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির আজেটেকা স্টেডিয়াম। পুরো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ স্টেডিয়ামে পর্দা উঠলো এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের। নিজ মাঠের এই উদ্বোধনী ম্যাচে জিতলো তিন স্বাগতিক দেশের একটি মেক্সিকো। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ম্যাচে ২-০ গোলে জয় মেক্সিকানদের।
একইসাথে এই জয় সাক্ষী হলো দুটি রেকর্ডের। এই প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ডের ঘটনা ঘটল। আর সেই সাথে এই প্রথম কোনো স্বাগতিক দেশ নিজ মাঠে তিন বিশ্বকাপের টানা তিন প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকলো।
মেক্সিকোর মতো আর কোনো দেশই তৃতীয়বারের মতো এই আসরের হোস্ট হতে পারেনি। এদিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেক্সিকানরা মিয়ামি, ডালাসসহ বিভিন্ন জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিনে নিজ দলের জয়োৎসব দেখেছে।
মেক্সিকোই বিশ্বের প্রথম দেশ যারা তিনটি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ। ১৯৭০, ১৯৮৬ সালে এককভাবে বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসরের আয়োজক হলেও এবার কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে। লক্ষণীয় বিষয় হলো উত্তর আমেরিকার এই দেশটি এখন পর্যন্ত নিজ মাঠে নিজেদের কোনো প্রথম ম্যাচেই হারেনি। দু’বার জিতেছে আর অপরটি ড্র।
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ। সেবার মেক্সিকো প্রথম ম্যাচ খেলেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে। এক নাম্বার গ্রুপের সেই ম্যাচে স্বাগতিকরা গোল শূন্য ড্র করেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বর্তমান রাশিয়ার সাথে।
এরপর ১৯৮৬ সালে ফের বিশ্বকাপ বসে কনকাকাফ অঞ্চলের এই দেশটিতে। সেবার তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম। সেই বিশ্বকাপে এল ট্রাইও খ্যাত মেক্সিকানরা ২-১ গোলে হারিয়েছিল বেলজিয়ানদের।
তিন বিশ্বকাপে নিজ মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা এবার নিজেদেরই করে নিলো এখনো কোয়ার্টার ফাইনালের বেশি যেতে না পারা দলটি।
আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশের দেশটি মেক্সিকোর কাছে ০-২ গোলে হারের তেতো স্বাদ নিতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
এ পর্যন্ত ৫টি দেশ দুইবার করে বিশ্বকাপের স্বাগতিক হয়েছে। এই পাঁচ দেশই স্বাগতিক হিসেবে দুই বিশ্বকাপেরই প্রথম ম্যাচ জিতেছে। সেই হিসেবে মেক্সিকো গতকালের আগ পর্যন্ত রেকর্ডের ধারে কাছেও ছিল না। কারণ, তারা নিজ মাঠের দুই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ছিল, কিন্তু দুটিতে জয় পায়নি। কিন্তু টানা তিন ম্যাচে না হেরে এখন মেক্সিকোই একক রেকর্ডের মালিক।
বাকি পাঁচ দেশের কোনোটি যদি ফের বিশ্বকাপের হোস্ট হয় এবং প্রথম ম্যাচে জিততে পারে, তাহলে তারাই গড়বে নতুন রেকর্ড। কারণ, মেক্সিকানদের তিন ম্যাচে দুই জয়, এক ড্র।
এবার দেখে নেয়া যাক দুইবার স্বাগতিক হওয়া দেশগুলোর দুই আসরে প্রথম দুই ম্যাচের ফলাফল।
১৯৩৪ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ইতালি নিজ মাঠে জয় পেয়েছিল। ১৯৩৪ সালে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৭-১ গোলে এবং ১৯৯০ সালে অস্ট্রিয়াকে ১-০ তে পরাজিত করে।
১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স নিজ মাঠে প্রথম ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ গোলে এবং ১৯৯৮ সালে হোম ভেন্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ তে হারিয়েছিল।
পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪ সালে নিজ মাঠে চিলিকে ১-০ গোলে, পূর্ব জার্মানি ২-০ তে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় এবং ২০০৬ সালে জার্মানি ৪-২ গোলে কোস্টারিকাকে পরাজয়ের কলংকে ডুবিয়েছিল। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম ও পূর্ব জার্মানি নামে দুটি দল খেলেছিল।
নিজ মাঠে স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলও ২০১৪ সালে ৩-১ এ ক্রোয়েশিয়াকে এবং ১৯৫০ সালে মেক্সিকোকে ৪-০ তে হারিয়েছিল।
এদিন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ড দেখিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ব্রাজিলের ওয়ালটন ফেরেইরা সাম্পাইও। বিরতির পর তিনি সফরকারী দলের স্পিপিলো সিতোলে, থেম্বা জাওয়ানে এবং মেক্সিকোর সিজার মন্তেসকে লালকার্ড দেখান। অথচ ২০১৮ রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পুরো আসরে চারটি করে লালকার্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এবার এক ম্যাচেই তিন লাল কার্ড বলে দিচ্ছে মাঠে কতোটা ভয়ঙ্কর হতে যাচ্ছেন ওই বাঁশিওয়ালারা।
মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের তিন লাল কার্ড উদ্বোধনী ম্যাচের রেকর্ড হলেও বিশ্বকাপের এক ম্যাচের সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের ঘটনা নয়। এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ডের ঘটনার জন্ম দিয়ে রেকর্ডবুকে চলে গেছে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডের ম্যাচ। ২০০৬ সালের নুরেমবার্গে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে চারটি লাল কার্ড দেখান রাশিয়ার রেফারি ভেলেন্তিন ইভানভ। চার লালকার্ডের ওই ঘটনার জন্য দ্বিতীয় রাউন্ডের ওই ম্যাচটি তাই ব্যাটেল অব নুরেমবার্গ নামে পরিচিত। ওই ম্যাচে রুশ রেফারি ৪টি লাল কার্ডের সাথে ১৬ হলুদ কার্ড দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।



