বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার উদযাপন নতুন এক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের হাতে থাকা ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার কেন্দ্র করে ফুঁসছে যুক্তরাজ্য।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বকাপ আমাদের না-ও হতে পারে, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে ও তাদের সিদ্ধান্তই আমাদের অবস্থানের ভিত্তি।’
ব্রিটিশ সরকারের দাবি, ১৮৩৩ সাল থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ব্রিটিশদের অধীনেই থাকার পক্ষে মত দেন। তাই আর্জেন্টিনার দাবিতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান বদলাবে না বলেও স্পষ্ট করে সরকার।
এর আগে, যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানমন্ত্রী পিটার কাইল বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শনকে ‘সম্পূর্ণ অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে রাজনীতির স্থান হওয়া উচিত নয়।’
বিষয়টা নিয়ে ফিফার হস্তক্ষেপ দাবি করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, ফিফা ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। বিশ্বকাপের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখা।’
গত বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ও ফিফা স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত পতাকা ও ব্যানার বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ফকল্যান্ড–সংক্রান্ত ব্যানারও সেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
ফলে নিষিদ্ধ ব্যানারটি কিভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করল এবং ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছাল—তা নিয়েই তদন্তের দাবি তুলেছে যুক্তরাজ্য। তাদের সেই আহবানে সাড়া দিয়েছে ফিফা।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করছে। তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এই ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ‘মাঠে খেলোয়াড়েরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি প্রদর্শন করতে পারবেন না।’
ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক কোনো স্লোগান বা বক্তব্য প্রদর্শন করলে ফিফা সাধারণত জরিমানা করে থাকে। জরিমানার মাত্রা হতে পারে ৫ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় জড়িত থাকলে তাদের নিষিদ্ধও করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ—যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত—এর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কয়েক দশক ধরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মাঝে বিরোধ চলছে। উভয় দেশই দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে এবং বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি ইস্যু। যা বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল আরো উস্কে দিয়েছে।



