বিতর্কের মুখে থাকা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরবের ফুটবল ফেডারেশন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, যেখানেই সহায়ক হবে, সেখানে গঠনমূলক আলোচনায় সমর্থন দিতে আমরা প্রস্তুত।
ফিফার পরিকল্পিত একটি উদ্যোগ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান বিরোধে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গন উত্তাল ছিল। যদিও বিভিন্ন বিতর্কেও মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি অর্থায়ন আনার কথা ছিল।
২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব গত ৫ আগস্ট ইনফান্তিনো ও ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রমের দেয়া যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে সৌদি ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, ফিফা সভাপতি ও মহাসচিবের সাম্প্রতিক যৌথ খোলা চিঠিতে ভুল স্বীকার, ক্ষমা প্রার্থনা, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতিকে আমরা স্বাগত জানাই।
ফেডারেশন আরো বলেছে, ‘এগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’
বিবৃতির শেষাংশে সৌদি ফেডারেশন জানায়, ‘ফুটবল পরিবারের মধ্যে ঐক্য পুনরুদ্ধার এবং সবার কল্যাণে খেলাটির আরো বিকাশ অব্যাহত রাখার জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ফিফার নেতৃত্বের চলমান প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।’
২০২২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার এবং এশিয়ার আরো কয়েকটি সদস্য সংস্থাও সৌদি আরবের মতো ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর অবস্থানের সাথে তাদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। এএফসি ইনফান্তিনোর ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা করেছে।
বিশ্ব ফুটবলের অর্থনীতিতে যেসব দেশের ক্লাব ও জাতীয় দল সবচেয়ে প্রভাবশালী, তাদের অন্যতম ইউরোপ। জুলাইয়ের শেষ দিকে যখন জানা যায়, ফিফা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো নিজেদের সবচেয়ে বড় আয়োজন পরিচালনার জন্য একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে, তখন ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) উদ্যোগের অধীনে গঠিত ওই প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা অংশীদারিত্ব কিনতে পারতেন।
প্রকল্পটি বাতিল করা হলেও ইনফান্তিনোর ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১০ আগস্ট এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো (কনকাকাফ) যৌথ চিঠি প্রকাশ করে নতুন করে সমালোচনা করে।
আগামী মার্চে রাবাতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে চান ইনফান্তিনো। তবে পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বাসস



