ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কার্লোস কিরোস। ৭৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ বিরল এক কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন। টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়ানোর বিরল রেকর্ডে নাম লেখাবেন তিনি।
অথচ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক মাস আগেও আলোচনার বাইরে ছিলেন কার্লোস কিরোস। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘানার জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে যান তিনি। আর এবার নাম লেখাতে যাচ্ছেন ইতিহাসে।
আগামী বৃহস্পতিবার টরন্টোতে পানামার বিপক্ষে ঘানার ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই এই কীর্তি গড়বেন কিরোস। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।
এতদিন এই অনন্য কীর্তির মালিক ছিলেন শুধু সার্বিয়ান কিংবদন্তি কোচ বোরা মিলুতিনোভিচ, যিনি ১৯৮৬ থেকে ২০০২ পর্যন্ত পাঁচটি ভিন্ন জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অবশ্য বিশ্বকাপে সর্বাধিক অংশগ্রহণের রেকর্ড এখনো ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লোস আলবের্তো পারেইরার দখলে। ছয়টি বিশ্বকাপে পাঁচটি ভিন্ন দলকে কোচিং করিয়েছেন তিনি, যদিও সেটি টানা নয়।
এমনকি ১৯৯৪ সালে তার হাত ধরেই ব্রাজিল জিতেছিল বিশ্বকাপ শিরোপা। অবশ্য বোরা মিলুতিনোভিচ বা কার্লোস কিরোস এখনো বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে পারেননি, পাননি ফাইনালের দেখাও।
মজার বিষয় হলো, পারেইরার সেই রেকর্ডের পাশে আরো আগেই জায়গা করে নিতে পারতেন কিরোস। ২০০২ বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে তুলেনও তিনি।
তবে এরপর আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে মতবিরোধের কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই পদত্যাগ করেন তিনি। ফলে সেই বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়ানোর সুযোগ হারান।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার অভিষেক হয় ২০১০ সালে পর্তুগালের কোচ হিসেবে। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—টানা তিনটি বিশ্বকাপে ইরানের দায়িত্ব পালন করেন। এবার ঘানার কোচ হিসেবে নামছেন নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ অভিযানে।
ঘানার দায়িত্ব পাওয়ার গল্পটাও নাটকীয়। কয়েকটি হতাশাজনক প্রীতি ম্যাচের পর বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৭২ দিন আগে বরখাস্ত হন তৎকালীন কোচ অটো আডো। তার পরিবর্তে এপ্রিলের মাঝামাঝি দায়িত্ব পান কিরোস।
ঘানার আগে সর্বশেষ ওমানের কোচ ছিলেন তিনি, যা ছিল তার অষ্টম ভিন্ন জাতীয় দলের দায়িত্ব। বোঝাই যাচ্ছে কিরোসের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ ভারি।
উল্লেখ্য, ক্লাব ফুটবলেও আছে কিরোসের পদচারণা। রিয়াল মাদ্রিদে প্রধান কোচ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সহকারীর ভূমিকাতেও দেখা গেছে তাকে।



