চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মেক্সিকো। ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই করা দুই গোলই শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কোনো প্রভাবই পড়েনি মেক্সিকোর খেলায়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইকুয়েডরকে চাপে রাখে তারা।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে হুলিয়ান কিনিওনেসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। গোলের পর আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ। ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ ফিনিশিংয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
প্রথমার্ধে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে ছিল মেক্সিকোর স্পষ্ট আধিপত্য। অন্যদিকে ইকুয়েডরের ফরোয়ার্ডরা সুসংগঠিত মেক্সিকান রক্ষণভাগ ভেদ করে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইকুয়েডর। তারা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে মেক্সিকোও দ্বিতীয়ার্ধে আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের দুই গোলেই নিশ্চিত হয় ২-০ ব্যবধানের জয়।
এই জয়ে ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল মেক্সিকো। স্বাগতিকদের এই সাফল্যে আজতেকা স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় উল্লাস। আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত মেক্সিকো এখন শেষ ষোলো পেরিয়ে আরো দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
মেক্সিকো এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সর্বশেষ নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। সেবার স্বাগতিক হিসেবে তারা রাউন্ড অব ১৬-তে বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।



