বিশ্বকাপ শুরুর ছয় দিন পর শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সতর্কতার সুরই বেশি শোনা গেল কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষের সেই অপ্রত্যাশিত হার স্মৃতিতে এখনো তাজা স্কালোনির। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। প্রথম ম্যাচ থেকেও খেলতে চান চ্যাম্পিয়নের মতো।
বুধবার ভোর ৭টায় কানসাস সিটিতে র্যাঙ্কিংয়ে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা যেখানে শীর্ষে, আলজেরিয়ার অবস্থান সেখানে ২৮তম।
ফুটবল ইতিহাসে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল দু’দলের। ২০০৭ সালের সেই প্রীতি ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতে মেসিরা। তবুও ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন দলটাকে সম্মান দিয়েই। তার মতে, আলজেরিয়া এমন একটি দল, যারা দ্রুতগতির আক্রমণ আর সংগঠিত ফুটবলের মাধ্যমে যেকোনো প্রতিপক্ষকে ভোগাতে পারে। তাই তাদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘সামনের সারিতে কয়েকজন দ্রুতগতির খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে তারা দুর্দান্ত দল। তাদের বিপক্ষে সতর্ক থাকতে হবে এবং সম্মান দেখানোর জন্য উপযুক্ত। তারা আমাদের কাজটা কঠিন করে তুলতে পারে।’
স্কালোনির মতে, আলজেরিয়ার খেলার ধরন অনেকটাই মরক্কোর মতো- শৃঙ্খলাবদ্ধ, গতিময় এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ভয়ঙ্কর। প্রতিপক্ষের কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচের কৌশলগত দক্ষতারও প্রশংসা করেন তিনি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, প্রথম ম্যাচ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সবকিছু নির্ধারণ করে না। সৌদি আরবের বিপক্ষে হার তাদের শিখিয়েছে, টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সবসময় থাকে।
আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ থেকে আমরা জানি, প্রথম ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা নির্ণায়ক হয় না। আমরা মানসিকভাবে স্বস্তিতে আছি যে প্রথম ম্যাচেই সব শেষ হয়ে যাবে না।’
চোট সমস্যা নিয়েও কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে আর্জেন্টিনা। অ্যাঙ্কলের চোট কাটিয়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও আঙুলের চোট কাটিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ প্রথম ম্যাচেই খেলতে পারেন। তবে নিকোলাস তালিয়াফিকোকে নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির চোখে সতর্কতার বার্তা। তার ভাষায়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রতিটি দলই আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বপ্ন দেখে। তাই আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; শক্ত রক্ষণ গড়ে তুলে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলাই হবে মূল লক্ষ্য।
চার বছর আগে সৌদি আরবের কাছে হোঁচট খেয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের গল্প লিখেছিল আর্জেন্টিনা। এবার সেই স্মৃতিকে শিক্ষা হিসেবে নিয়েই শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামছে লিওনেল মেসিদের দল।



