আর্জেন্টিনাকে বিশ্বাস করা যায় না, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত তাদের থামানো যায় না। যেকোনো সময়ে হয়ে যেতে পারে যেকোনো কিছুই। চলতি বিশ্বকাপে ম্যাচের শেষ ভাগে গোল করা অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে তাদের।
বিশেষ করে শেষ কয়েক ম্যাচে বিষয়টা যেন শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন মেসিরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল বুধবার রাতে ৮৫ ও ৯২ মিনিটে জোড়া গোল করে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আবারো আলোচনায় তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা।
হারার আগে হার নয়—এই নীতিতে বিশ্বাসী মেসিরা বিশ্বকাপে লিখছে একের পর এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প। টুর্নামেন্টে ৭৫ মিনিট বা তার পরে আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২টিতে।
গ্রুপ পর্বেই এই প্রবণতার আভাস দিয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৭৬ মিনিটে গোল করেন লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও ৭৭ মিনিটে জালের দেখা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এরপর জর্ডানের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে গোল করে জয়ের ব্যবধান আরো বাড়ান তিনি। তবে নকআউট পর্বে এসে শেষ মুহূর্তের আঘাত যেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্রে পরিণত হয়।
শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ের ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসি ও যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২') এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও ধৈর্যের ফল পায় স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ ও ১২১ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও একই গল্প। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২') লাউতারো মার্তিনেজের গোলেই ২-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
সব মিলিয়ে ৭৫ মিনিট বা তার পর আর্জেন্টিনার ১২ গোলের নয়টিই এসেছে নকআউট পর্বে। ম্যাচের শেষ ভাগে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে গোল আদায় করে নেয়ার এই অসাধারণ সামর্থ্যই তাদের শিরোপার কাছে পৌঁছে দিয়েছে।



