সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সিংহাসন হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। টানা দুই আসরে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলেও এবার আর পারলো না। শিরোপা আবারো নিজেদের করে নিলো স্বাগতিক ভারত।
শনিবার পন্ডিত জওহর লাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারত। এ নিয়ে ৮ আসরে ছয়বার সাফের শিরোপা জিতলো দেশটি।
ভারতের গোয়ায় চলমান এবারের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট ইতিহাসের অষ্টম আসর। প্রথম পাঁচ আসরেই শিরোপা জিতেছিল ভারত। পরের দুই আসরে আধিপত্য দেখায় লাল-সবুজের মেয়েরা।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল- ২০১৬ সালের উদ্বোধনী আসরে। সেবারও একই ব্যবধানে (৩-১ গোলে) জিতেছিল ভারত।
অথচ টানা তৃতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করলো ক্রিসপিন ছেত্রীর দল।
চেষ্টার কমতি ছিল না। জড়তা ঝেড়ে ফাইনালে উজ্জীবিত ফুটবলের পসরা মেললেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। পিছিয়ে পড়ার পর, দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে দিল বড় লড়াইয়ের বার্তা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হওয়া যায়নি।
কোনো দলই গোল পাচ্ছিলো না শুরুর দিকে। বাংলাদেশ-ভারত দুই দলই একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে প্রথম ৪০ মিনিটে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে কাঁটে গোলখরা। এগিয়ে যায় ভারত।
৪২ মিনিটে গোল করেন পেয়ারি জাজা। তাকে আটকাতে ছুটে যাওয়া সুরভীর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল ডুকে যায় জালে। তবে এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি ধরে রাখতে পারেনি ভারত।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। আনিকার থেকে বল পেয়ে তহুরা দারুণভাবে বাড়িয়ে দেন ঋতুপর্ণাকে। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে জালে জড়ান ঋতুপর্ণা।
যোগ করা সময়ের এই গোলের কিছুক্ষণ পরই প্রথমার্ধের বিরতির বাঁশি বাজান রেফারি। ভারত আসরে তাদের চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম গোল হজম করে বিরতি যায়।
এদিকে, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। খেলা শুরুর ৪৮ সেকেন্ডেই পেয়ারি জাজার বাড়ানো ক্রসে হেডে গোল করে সানফিদা। স্বাগতিকেরা এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।
৫১ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে আসা বলে হেড নিয়েছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
আবার ৫৮তম মিনিটে রেফারির কাছে একটি পেনাল্টির আবেদন করে বাংলাদেশ। মালভিকার সাথে বল দখলের লড়াইয়ে বক্সে পড়ে যান শামসুন্নাহার। তাতে পেনাল্টির আবেদন হলেও রেফারি কর্ণপাত করেননি।
এর মাঝে আধিপত্য ধরে রেখে ভারত তুলে নেয় নিজেদের তৃতীয় গোল। ৮৩ মিনিটে এলোমেলো রক্ষণের সুযোগটা কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন কম সেরতো। তাতেই শেষ হয় বাংলাদেশের আশা।
শেষ সময়ে প্রতিপক্ষের আরো একটি প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে হেডে ক্লিয়ার করেন কোহাতি কিসকু। তাতে জয়ের ব্যবধান বাড়েনি ভারতের।



