একদিকে যুদ্ধের বিভীষিকা, অন্যদিকে বিশ্বকাপের স্বপ্ন। রাজনীতি আর ভূ-রাজনীতির উত্তপ্ত বাস্তবতার মাঝেও ফুটবলের সবুজ ঘাসে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিল ইরান। কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিট শেষ হলেও তাদের লড়াই শেষ হয়নি।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের লড়াকু ড্র করে মাঠ ছাড়ে ইরান। শেষ বাঁশি বাজতেই যেন আরেক যুদ্ধের সূচনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো দলকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি ছেড়ে অবিলম্বে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
স্বাভাবিক নিয়মে ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও রিকভারি সেশনের জন্য ক্যালিফোর্নিয়াতেই রাত কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগটুকুও দেয়া হয়নি। তড়িঘড়ি করে মাত্র ১৪০ মাইল দূরের গন্তব্যে রাতের ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয় পুরো দলকে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ লুকাতে পারেননি ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই। তার কণ্ঠে ছিল হতাশা, ক্ষোভ আর বঞ্চনার সুর-
‘আমাদের ক্লান্তি দূর করার ন্যূনতম সময়টুকুও দেয়া হয়নি। ম্যাচ শেষ হতেই বলা হলো এখনই দেশ ছাড়তে হবে। আমার মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপে ইরানই সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত ও অত্যাচারিত দল।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ভ্রমণ আর কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার কারণে খেলোয়াড়রা ঠিকমতো মানিয়ে নেয়ার সুযোগই পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে আমাদের ভাগ্য অন্য কেউ নির্ধারণ করছে।’
অধিনায়ক মেহেদি তারেমিও তুলে ধরেছেন দলের দুর্ভোগের চিত্র। তিনি জানান, টিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্বল্প দূরত্বের যাত্রাতেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা ও ভ্রমণজনিত ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের।
মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নানা অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মধ্যে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ না রাখার জন্য ফিফার কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছিল ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষ। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
ফলে সীমিত স্টাফ, বাড়তি নিরাপত্তা, বিধিনিষেধ এবং লাগাতার ভ্রমণের চাপ নিয়েই বিশ্বমঞ্চে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে ইরানকে।
মাঠে তারা গোলের জন্য লড়ছে, আর মাঠের বাইরে লড়ছে অস্তিত্ব, সম্মান আর স্বাভাবিক পরিবেশে ফুটবল খেলার অধিকারের জন্য। বিশ্বকাপের আলোয় তাই ইরানের গল্প শুধু ফুটবলের নয়, এক সংগ্রামী জাতির প্রতিচ্ছবিও।



