ইনজুরির কারণে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলেও, প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত দল নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
তিনি জানান, ইনজুরি সমস্যা থাকার পরও প্রথম টেস্টের জন্য সেরা দল বেছে নেয়া হয়েছে।
বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ইনজুরি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করে বাশারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেল।
তিনি জানান, অনেক আগ থেকে দল চূড়ান্ত করা লক্ষ্য ছিল নির্বাচকদের। কারণ সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে ধারাবাহিক ভালো পারফরমেন্সের সুবাদে টেস্ট দলে কোনো পরিবর্তন আনার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কয়েকজন খেলোয়াড়ের ইনজুরির কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।
বাশার বলেন, ‘দ্রুত সুস্থ হয়ে কয়েকজন খেলোয়াড় প্রথম টেস্ট খেলার অবস্থায় ফিরবে, এই আশায় আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সেটি আর হয়নি। ক্রিকেটে সবসময় সেরা একাদশ পাওয়া যায় না। যারা ফিট ও খেলার জন্য প্রস্তুত, তাদের মধ্যে থেকেই আমরা সেরা দল বেছে নিয়েছি। এই দল নিয়েই প্রথম টেস্টে আমরা ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী।’
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলিকে দলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নির্বাচক জানান, বাজে পারফরমেন্সের কারণে জাকেরকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়নি। মূলত ঘরোয়া এবং হাই পারফরমেন্সের ম্যাচ খেলে তাকে ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল।
বাশার বলেন, ‘আমরা যা আশা করেছিলাম, সে তেমন পারফরমেন্স করে প্রমাণ করেছে। সে আবারো দলে ফেরার জন্য প্রস্তুত। এজন্যই আমদের প্রথম পছন্দ ছিল জাকের।’
তিনি আরো জানান, অস্ট্রেলিয়ার সফরের দলে সুযোগ না পেলেও ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় রয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
লিটন দাসের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বাশার বলেন, ‘প্রাথমিক স্ক্যানে বড় কোনো আঘাত ধরা পড়েনি লিটনের। তবে সিঙ্গাপুরে পরের মেডিক্যাল রিপোর্টে ফোলা ভাব ধরা পড়েছে। এই অবস্থার কারণে মাঠের ফেরার জন্য পুর্নবাসন প্রক্রিয়া মধ্যেই থাকতে হবে লিটনকে।’
জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের হারের জন্য ব্যাটিং ইউনিটকেই দায়ী করেন বাশার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বাজে ব্যাটিংয়ে আমরা ম্যাচ হেরেছি। প্রথম ইনিংসে যদি তিন শতাধিক রান করতে পারতাম তাহলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। আমাদের বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞ টেস্ট বোলাররা ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।’
অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের ব্যাটারদের উদ্দেশে পরামর্শ দিতে গিয়ে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বাশার জানান, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পরিবর্তে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ব্যাটারদের খেলতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা সবসময়ই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। অজিরা পাল্টা আক্রমণের সুযোগ নিয়ে থাকে। আমাদের ব্যাটাররা যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলতে পারে, তাহলে এই কৌশলটি আমাদের জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অভিষেক হয়েছিল মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়ের। দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩ ও ৯ রান করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে সুযোগ পাননি হৃদয়।
দল থেকে হৃদয়ের বাদ পড়ার বিষয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, হৃদয়কে বাদ দেয়া হয়েছে, কারণ একাদশে তার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচটি খেললে, সেটি হৃদয়ের জন্য বেশি ভালো হবে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন পেসার মুশফিক হাসান। এ বিষয়ে বাশার জানান, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখেই তাকে দলে নেয়া হয়েছে। কারণ সেখানকার উইকেটে তার গতি এবং লাইন লেন্থ অনেক বেশি কার্যকর হবে।
সূত্র: বাসস



