অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে রোববার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় বাংলাদেশ। যে কারণে শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ দল।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়।
সদ্যই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। যে কারণেই টি-টোয়েন্টি সিরিজও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল টাইগাররা।
কিন্তু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলতে নেমে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৪ উইকেটে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে পড়ে ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ১০ বল বাকি রেখে জয়ের বন্দরে পা রাখে অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটাররা ভালো করলেও, মাঝের ওভারগুলোতে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৭২ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। যা টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রান বাংলাদেশের।
১৫ ওভার শেষেও ম্যাচে টিকে ছিল বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৪ রান দরকার ছিল টাইগারদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে সিরিজ হারে বাংলাদেশ।
সিরিজ হারের হতাশা থাকলেও, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় বলেন, ‘আমরা সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলেছি, কিন্তু কিছু জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে। উইকেটে সেট হওয়ার পর বড় ইনিংস খেলতে হবে ব্যাটারদের। তাহলেই ম্যাচ জয় সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, পরের ম্যাচেই আমরা ঘুরে দাঁড়াবো।’
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে বাংলাদেশ দলে। লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেতে পারেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ২৬ রানে ১ উইকেট নিলেও, দ্বিতীয়টিতে ব্যয়হুল ছিলেন রিশাদ। ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়েও উইকেটের দেখা পাননি তিনি।
ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচেও খেলতে পারবেন না নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম দুই ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি।
এদিকে, ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সালে বাংলাদেশের কাছে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর, এই টি-টোয়েন্টি জয় অস্ট্রেলিয়ার মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
সিরিজ জয়ে দলের পারফরমেন্সে খুশি হলেও বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া। অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, এই সিরিজ জয়ের জন্য আমরা মুখিয়ে ছিলাম এবং প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ শেষ করতে পারাটা দলের জন্য সত্যিই আনন্দের। জয় অবশ্যই আনন্দের, কিন্তু আমাদের এখনো এক ম্যাচ বাকি আছে।’
সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে অস্ট্রেলিয়া। এই সফরে এখনো খেলেননি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জশ ফিলিপ এবং বাঁ-হাতি স্পিনার ম্যাট কুনেমান। সফরের শেষ ম্যাচে তাদের সুযোগ দেয়া হতে পারে।
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে চারবার। অস্ট্রেলিয়ার জয় নয়বার।
বাংলাদেশ দল : তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও সৌম্য সরকার।
অস্ট্রেলিয়া দল : মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, নিখিল চৌধুরী, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সার জনসন, ম্যাথু কুহেনিম্যান, রিলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপ, ম্যাথু রেনশ ও এডাম জাম্পা।



