যেভাবে শুরু করেছিল বাংলাদেশ, শেষটা হয়তো সেভাবে হলো না, তবে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং পুঁজিই পেয়েছে টাইগাররা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে তুলেছে ২৮৪ রান।
দলকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেয়ার কাজটা করেছেন মোসাদ্দেক। অন্যপ্রান্ত দিয়ে যখন ধুঁকছিল সতীর্থরা, তখন একপাশ আগলে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। অপরাজিত ছিলেন ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে ৮৬ রানে।
শুরুতে পথ দেখিয়েছেন অবশ্য তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ব্যাটে যেভাবে শুরু করেছিল বাংলাদেশ, মনে হচ্ছিলো হয়তো সাড়ে তিন শ’ পেরোবে সংগ্রহ। ১৬ ওভারে আসে প্রথম এক শ’।
যদিও শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই হারায় সাইফ হাসানের (৫) উইকেট। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠে দল তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে। দুজনে মিলে টানেন দলকে।
দুজনের জুটিতে আর কোনো বিপদ ছাড়াই পাওয়ার প্লেতে আসে ৬২ রান। এরপর তামিম ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি ছুঁয়েছেন ৪১ বলে। তবে ইনিংসটা আর বড় হয়নি, ৪৪ বলে ৫৪ রান নিয়ে থামেন তিনি।
তামিম ফেরার পরপরই লিটন দাসকে সাক্ষী রেখে ফিফটি পূরণ করেন শান্ত। ওয়ানডেতে নিজের ১২তম ফিফটি তুলে নেন ৫৭ বলে। অবশ্য লিটনের সাথে জুটি জমেনি তার, ৯ বলে ৭ করে ম্যাট রেনশর শিকার হন লিটন।
এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন শান্ত। তবে পারেননি, ২৫.৩ ওভারে দলকে ১৪০ রানে রেখে ফেরেন তিনি। উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৮৬ বলে ৬৭ রান করে আউট হন শান্ত।
শান্ত ফেরার পর মাঠে আসেন মোসাদ্দেক। চার বছর পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামেন তিনি। ২০২২ সালের আগস্টের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও থিতু হতে সময় নেননি। শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল।
তাওহীদ হৃদয়ের সাথে জুটি গড়ে টানতে থাকেন দলকে। তাদের ব্যাটে ভর করে ৩৮তম ওভারে দুই শ’ স্পর্শ করে বাংলাদেশ। তবে ৪০.৩ ওভারে দলের রান ২১৫ পর্যন্ত পৌঁছাতেই ভাঙে জুটি।
৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি ভেঙে হৃদয় ফেরেন ৫১ বলে ৩১ করে। সাতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মেহেদী মিরাজ। ১২ বলে ৩ রানে আউট তিনি। দ্রত ফেরেন তানভীর ইসলামও (৫)। দলের সংগ্রহ ৪৪.৩ ওভারে ২৩৯/৭।
এরপর তাসকিনকে নিয়ে ইনিংসের বাকি পথটা হাঁটেন মোসাদ্দেক। নিজে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাসকিন শেষ বলে আউট হবার আগে করেন ১৬ বলে ২০ রান।
অজিদের হয়ে নাথান এলিস ৩৮ রানে ৩, লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশ নেন দুটো করে উইকেট।



