মিডল অর্ডার ব্যাটার সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট নাটকীয়ভাবে ড্র করল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। তবে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতল ভারত।
প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ভারতের ৫০৩ রানের জবাবে ২৯০ রানে গুটিয়ে ফলো-অনে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ২১৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে পঞ্চম ও শেষ দিন ৯ উইকেটে ৪২৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। এতে ভারতকে ২১৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় লঙ্কানরা। কিন্তু ভারত আর ব্যাট হাতে না নামলে ম্যাচটি ড্র হয়। তখনো দিনের খেলার ১৭ ওভার বাকি ছিল।
টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন দিনুশা। প্রথম ইনিংসে ১০৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩৩ রান করে ম্যাচ সেরা হন তিনি। সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।
কলম্বোতে চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৯ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৬ রানে এগিয়ে ছিল লঙ্কানরা। দিনুশা ৭ ও কিশারা নুয়ান্থা ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
পঞ্চম দিন নুয়ান্থাকে ৪৬ রানে থামিয়ে ভারতকে উইকেট উপহার দেন স্পিনার মানাভ সুথার। ১৫০ বল খেলে ৪টি চার মারেন নুয়ান্থা। ২১৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর দিনুশার সাথে সপ্তম উইকেটে ২৪৬ বল খেলে ১১২ রানের জুটি গড়েন নুয়ান্থা।
দলীয় ৩৩০ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে নুয়ান্থা ফেরার কিছুক্ষণ পর প্রবাথ জয়সুরিয়াকে হারায় শ্রীলঙ্কা। ২ রান করে ভারত স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজার শিকার হন জয়সুরিয়া। ৩৫৫ রানে অষ্টম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
এরপর দশ নম্বর ব্যাটার লাহিরু কুমারাকে নিয়ে দলের রান ৪০০ পার করেন দিনুশা। এই জুটিতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান দিনুশা। এই সিরিজেই তিনটি সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নেন তিনি।
বিশ্বের অষ্টম ব্যাটার হিসেবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের তিন সেঞ্চুরি কীর্তি গড়লেন দিনুশা। এ ছাড়া ফলো অন হওয়া টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তুললেন তিনি। এর আগে ১৯৪৮ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের বিজয় হাজারে (১১৬ ও ১৪৫) এবং ২০০১ সালে হারারেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের দুই ইনিংসে শতক হাঁকিয়েছিলেন এন্ডি ফ্লাওয়ার (১৪২ ও ১৯৯*)।
দলীয় ৪০২ রানে দিনুশা-কুমারার জুটি ভাঙেন জাদেজা। ৯০ বলে ১২ রান করেন কুমারা। নবম উইকেটে ১৭০ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তারা।
কুমারা ফেরার পর শেষ ব্যাটার আসিথা ফার্নান্দোকে নিয়ে ৫৬ বলে ২৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দিনুশা। এরপর ৯ উইকেটে ৪২৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা।
৪২০ মিনিট ক্রিজে থেকে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬৪ বলে অপরাজিত ১৩৩ রান করেন দিনুশা। ২৪ বলে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন আসিথা।
সুথার ও জাদেজা ৩টি করে উইকেট নেন।
২ সেঞ্চুরিতে ৩ ইনিংসে ৩২৮ রান করে সিরিজ সেরা হন ভারতীয় ব্যাটার দেবদূত পাড্ডিকাল।



