ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে এবারই প্রথম হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান। এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন সাফল্য এবারই প্রথম পেল ইংলিশরা।
শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন মাত্র ২৪.২ ওভারে ১৩০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। শুরুতেই ২ রানে ২ উইকেট হারালেও জো রুট ও জর্ডান কক্সের অবিচ্ছিন্ন ১২৮ রানের জুটিতে অনায়াসে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪৫৩ রান করে ইংল্যান্ড। ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়া পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪৪৯ রান করে। তাতে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩০ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলেই বেন ডাকেটকে কট বিহাইন্ড করেন মোহাম্মাদ আব্বাস। একই ওভারের শেষ বলে এমিলিও গেকেও এলবিডব্লিউ করে দেন পাকিস্তানি পেসার। ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ইংল্যান্ডকে সেখান থেকে টেনে তোলেন রুট ও কক্স।
রুট ৮ চারে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। কক্সও ৮ চারে ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। রুট ৫৭ বলে ও কক্স ৬৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন ড্যান লরেন্স। সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করা অলি রবিনসনের সাথে যৌথভাবে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন পাকিস্তানের মোহাম্মাদ আব্বাস।
হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে জয় পায় ১৯৪ রানে। এবার এজবাস্টনে ৮ উইকেটের জয় দিয়ে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিকরা।
১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলার পর থেকে ১৭টি সিরিজে কখনোই পাকিস্তানকে খালি হাতে ফেরাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ১৯৬২ সালে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
২০০৬ ও ২০১০ সালেও সিরিজে এগিয়ে ছিল তারা; কিন্তু কোনোবারই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি। ২০১৬ ও ২০১৮ সালের সিরিজ যথাক্রমে ২-২ ও ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হলো।



