দুঃস্বপ্ন ভুলতে লড়ছেন নাঈম হাসান

ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামে থাকলে বারবার সেই স্মৃতি সামনে আসত। সিলেটে এসে দলের সাথে সময় কাটানো এবং ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পাওয়াটা নাঈমের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাঈম হাসান
নাঈম হাসান |ফাইল ছবি

এক সপ্তাহ আগেও জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নাঈম হাসান। পুলিশের হাতে মারধর ও হেনস্থার সেই ঘটনা এখনো তাড়া করে ফেরায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অফ স্পিনারকে। তবে মানসিক সেই ক্ষত ভুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখন ক্রিকেটকেই আঁকড়ে ধরেছেন তিনি।

গত ১২ জুন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের হাতে হেনস্থার শিকার হন নাঈম। পরে তাকে থানায়ও নেয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহার এবং দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও নিজেকে গুটিয়ে না রেখে দ্রুত মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সাথে, জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচ খেলতে সিলেটে।

চাইলেই ম্যাচটি এড়িয়ে যেতে পারতেন নাঈম। কিন্তু ক্রিকেটই হয়ে উঠেছে তার মানসিক পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

নিজের বর্তমান সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘সিলেটে আসার পর কেউ ওই ঘটনা নিয়ে কোনো কথা বলেনি। অনুশীলনের সময় শুধু ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা করেছি। নিজের বোলিং নিয়ে ভেবেছি, পুরো মনোযোগ ক্রিকেটে দিতে পেরেছি। এতে অনেক স্বস্তি পাচ্ছি।’

মাঠের বাইরে পরিবারের সঙ্গও তাকে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে। স্ত্রী ও সন্তান পাশে থাকায় কঠিন সময়টা সামলে উঠতে সুবিধা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

‘অনুশীলন আর ম্যাচের বাইরে পরিবারের সাথে সময় কাটাই। হোটেলে গেমস খেলার ব্যবস্থা আছে, সেখানে ভিডিও গেমস খেলি। রুমে থাকলে সন্তানের সাথে খেলাধুলা করি। নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি, যাতে ওই ঘটনার কথা বারবার মনে না আসে।’

নাঈমের ভাষায়, স্ত্রী সবসময় তাকে ইতিবাচক থাকতে উৎসাহ দেন।

‘আমি ভিডিও গেমস খেলতে খুব পছন্দ করি। স্ত্রী সবসময় বলে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। আর সন্তানের সাথে সময় কাটালে মন অনেক ভালো হয়ে যায়। এতে স্বস্তি পাই।’

তবুও মনের গভীরে ভয় আর অস্বস্তির ছাপ রয়ে গেছে। শান্ত-স্বভাবের এই ক্রিকেটার স্বীকার করেন, আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন এখন আর সহজ নয়।

‘আমি খুব সাধারণ জীবন পছন্দ করি। কিন্তু যা হয়েছে, এরপর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কঠিন। সিলেটে এসে হোটেল আর মাঠ ছাড়া কোথাও যাইনি। এই দুই জায়গাতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি।’

ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামে থাকলে বারবার সেই স্মৃতি সামনে আসত। সিলেটে এসে দলের সাথে সময় কাটানো এবং ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পাওয়াটা নাঈমের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

সামনেই বাংলাদেশ দলের জিম্বাবুয়ে সফর। রোববার জাতীয় দলের সাথে দেশ ছাড়বেন নাঈম হাসান। নতুন সফর, নতুন চ্যালেঞ্জ আর নতুন লক্ষ্য—সবকিছুর মাঝেই হয়তো ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে আসতে পারবেন লালখান বাজারের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি।