শেষ বিকেলে হৃদয়-জাকেরের লড়াই, আশা দেখছে বাংলাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকার ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ এখনো ৩১১ রানে পিছিয়ে। তৃতীয় দিনে হৃদয়-জাকেরের জুটি কতদূর এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের ম্যাচের একটি দৃশ্য
বাংলাদেশ ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের ম্যাচের একটি দৃশ্য |নয়া দিগন্ত অনলাইন

সামনে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের রানের পাহাড়, তখন ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। এমন কঠিন সময়ে হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি। দু’জনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জেগেছে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা।

মঙ্গলবার পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৫৭ ওভারে ৪ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০১ রান। তাওহিদ হৃদয় ৭৫ ও জাকের আলি ৪৭ রানে অপরাজিত। পঞ্চম উইকেটে দু’জনের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এসেছে ৬৬ রান।

এর আগে প্রথম দিনের ৪ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। দিনের শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। সিনেথেম্বা কেশিলে করেন ১২৮ রান।

এরপর ডেলানো পটগিটার দ্রুত ফিরলেও তবে গ্যাভিন ক্যাপলান ও কাইল সিমন্ডসের ব্যাটে আবারো এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ২৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে অষ্টম শতকের খুব কাছে গিয়ে ৯৭ রানে হাসান মুরাদের বলে বোল্ড হন ক্যাপলান।

আটে নেমে ঝড় তোলেন সিমন্ডস। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ৪১ বলে ৬৬ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৫০০ পার করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১৫.১ ওভারে ৫১২ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল নাঈম হাসান। অফ স্পিনে তিনি নেন ৪ উইকেট। হাসান মুরাদ পান ৩ উইকেট ও রেজাউর রহমান রাজা নেন ২টি।

বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। মাহমুদুল হাসান জয় মাত্র ৯ রান করে ফেরেন। তিনে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনও করেন মাত্র ৫ রান।

এরপর মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা সামাল নেয়ার চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে দু’জনের জুটি থেকে আসে ৩৯ রান। নাঈম শেখ ৩৪ রানে আউট হলে আবারো চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

হৃদয় এরপর আফিফ হোসেনকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়েন। কিন্তু ২৯ রানে আফিফ ফিরে গেলে ১৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। জাকের আলিকে সাথে নিয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন পার করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

জুনে টেস্ট অভিষেক হওয়া হৃদয় ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৭৫ রানে অপরাজিত। জাকেরের ৪৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে ৩১১ রানে। তবে হাতে রয়েছে ৬ উইকেট। তৃতীয় দিনে হৃদয়-জাকেরের জুটি কতদূর এগোয়, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।