ভিসা আবেদনে ভুল তথ্য দেয়ার অপরাধে ঘরোয়া ক্রিকেটার হামজা নজরকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করার সময় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন বলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করে উদীয়মান তারকা হিসেবে নজর কাড়ছিলেন ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার হামজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের দুই টেস্টের সিরিজের স্কোয়াডেও তার নাম থাকার জোরালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত এই কেলেঙ্কারির কারণেই শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের পথ বন্ধ হয়ে গেল তার।
পিসিবি জানায়, তদন্তে দেখা গেছে যে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় হামজা নজর সম্পূর্ণ ও নিখুঁত তথ্য প্রদান করেননি। বোর্ডের মতে, তিনি তথ্য গোপন করেছেন এবং বিভ্রান্তিকর বিবরণ জমা দিয়েছেন।
বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেখানে নিজের পক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয় নজরকে। তবে সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরেই এই দুই বছরের স্থগিতাদেশ ও আর্থিক জরিমানা নিশ্চিত করে পিসিবি।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার পর হামজা নজরকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক—সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লাখ রুপি জরিমানা করে পিসিবি। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়, এ ধরনের অপরাধ পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ও মূল্যবোধকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
পিসিবি এক বিবৃতিতে বলে, ‘ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং তথ্য গোপনের মতো বিষয়গুলোকে পিসিবি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে।’
পাকিস্তান ক্রিকেটের সাথে যুক্ত সবার কাছ থেকে কেমন আচরণ প্রত্যাশিত, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বোর্ড আরো যোগ করে, ‘এ ধরনের আচরণ সততা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতার ন্যূনতম মানদণ্ডের সাথেই যায় না।’
সংস্থাটির ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না জানিয়ে পিসিবি পরিষ্কার করে বলে, ‘বোর্ড, পাকিস্তান ক্রিকেট কিংবা কোটি কোটি সমর্থকের সম্মান নষ্ট করে—এমন কোনো কাজ কাউকে করতে দেয়া হবে না।’



