সাড়ে তিন শ’! বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে সংখ্যাটা এতদিন ছিল স্বপ্নের মতো, দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে সেটিই বাস্তব করে দেখালেন তাওহীদ হৃদয়। ব্যাট হাতে শুধু ট্রিপল সেঞ্চুরিই নয়, সেটিকে নিয়ে গেলেন আরো দূরে—৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে এই অবিশ্বাস্য ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছে। ফলে স্বাগতিকদের ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৬৪ রানের লিড।
হৃদয়ের ৩৫০ শুধু বড় একটি ইনিংস নয়, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের রেকর্ডও নতুন করে লিখেছে। এর আগে বাংলাদেশী ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল তামিম ইকবালের ৩৩৪ রান। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেলেন হৃদয়।
আর বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশী ব্যাটারের ট্রিপল সেঞ্চুরিও ছিল না। হৃদয় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান এই ম্যাচেই। ২ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমে ৪৫০ বল খেলে ৩০০ পূর্ণ করেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গল্পটা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। টস জিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে তুলে নেয় ৫১২ রান।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে বড় অবদান রাখেন সিনেথেম্বা কেশিলে ও লেসেগো সেনোকওয়ানে। কেশিলে করেন ১২৮ রান, সেনোকওয়ানে ১১১। গ্যাভিন কাপলান ৯৭ রানে থামেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাঈম হাসান চারটি এবং হাসান মুরাদ তিনটি উইকেট নেন।
৫১২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ১৩৫ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন স্বাগতিকদের হাতেই।
সেখান থেকেই শুরু হৃদয়ের প্রতিরোধ। জাকেরকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তিনি।
পঞ্চম উইকেটে দুজনে যোগ করেন ১৫১ রানের জুটি। জাকের ব্যাট করেন দারুণ আত্মবিশ্বাসে। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থামতে হয় তাকে। ১৬৮ বলে ৯৪ রান করেন জাকের। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা।
জাকের ফিরে গেলেও থামেননি হৃদয়। এবার তার সঙ্গী হন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন আরও ১৮৫ রান। ১৭১ বলে ৮৭ রান করে দিনের শেষ বলে আউট হন সাইফউদ্দিন।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ ছিল ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। হৃদয় তখন অপরাজিত ২০৪ রানে। অর্থাৎ স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের স্কোর থেকে বাংলাদেশ তখনও ৪১ রান পিছিয়ে।
বুধবার নতুন দিনে ব্যাটিং শুরু করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। পেরিয়ে যান আড়াই শ’, তারপর তিন শ’। এর মধ্য দিয়েই ইতিহাস গড়েন হৃদয়। বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার হয়ে যান তিনি।
এরপরও থামেননি। তামিমের ৩৩৪ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান ৩৫০-এ। ৪৮১ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায়। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ ৬৭৬/৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। মুশফিক হাসান অপরাজিত ছিলেন ১১০ বলে ৩১ রানে।
উল্লেখ্য, ১৩৫ রানে চার উইকেট হারানো বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে তাওহীদ হৃদয় শুধু বিপদ থেকে উদ্ধার করেননি; দলের স্কোরকে নিয়ে গেছেন এমন এক জায়গায়, যেখানে ম্যাচের গল্পটাই বদলে গেছে।



