ব্যাটাররা আবারো হতাশ করেছেন। কোনো রকমে এক শ’ পেরিয়েই গুটিয়ে গেছেন। এতো ছোট পুঁজি নিয়ে ম্যাচ জেতার আশা তখন অনেকটাই ক্ষীণ। তার ওপর ম্যাচটি যখন বাঁচা-মরার, এমতাবস্থায় মনে হচ্ছিল—এশিয়া কাপের পথচলা বুঝি এখানেই শেষ!
কিন্তু বল হাতে বাংলাদেশের মেয়েরা দেখালেন অন্য এক গল্প। দুর্দান্ত বোলিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬৯ রানে আটকে দিয়ে ৩৪ রানের জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। সেই সাথে নিশ্চিত করলো এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের টিকিটও।
মঙ্গলবার রাতে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। জিতলেই সেমিফাইনাল, হারলেই শেষ হয়ে যেত এশিয়া কাপের পথচলা। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা আবারো ভুগিয়েছে। যদিও বোলাররা বাঁচিয়ে দিয়েছেন এবারের মতো।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি ফিরে যান। মাত্র ৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর জুয়াইরিয়া ফেরদৌসকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
তবে ৩১ রানের জুটি ভাঙার পর আবারো ছন্দপতন। ১৬ রান করে জুয়াইরিয়া ফেরার পর জ্যোতি আউট হন ২৩ রানে। এরপর স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুনও কোনো রান করতে পারেননি। একপর্যায়ে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় মাত্র ৫৫।
সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও নাহিদা আক্তার। সপ্তম উইকেটে ৪৩ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তারা। চলতি আসরে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া সুপ্তা খেলেন ৩১ বলে ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার। নাহিদা অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে।
তাদের ব্যাটেই কোনোমতে শতরানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানে থামে ইনিংস।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে আমিরাত। প্রথম ওভারেই অধিনায়ক ইশা ওজাকে ফিরিয়ে দেন মারুফা আক্তার। এরপর পঞ্চম ওভারে সামাইরা ধরনিধরকাকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এই তরুণ পেসার।
৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট—মারুফার দুর্দান্ত স্পেলই আমিরাতের রান তাড়ার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। তিন ম্যাচে তার শিকার এখন ৭ উইকেট।
মারুফার সাথে দারুণভাবে যোগ দেন রাবেয়া খান। একাদশে ফিরে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। সুলতানা খাতুন ও ফাহিমা খাতুনের ঝুলিতে যায় একটি করে উইকেট।
বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে পাওয়ার প্লেতেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আমিরাত। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ১৫ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা—চলতি টুর্নামেন্টে পাওয়ার প্লেতে এটিই সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
অষ্টম ওভারে রাবেয়ার শিকার হন রিনিথা রজথ। এরপর দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকা তীর্থ সতীশকে ফেরান সুলতানা খাতুন। পরের ওভারে নাহিদা আক্তারের বলে আউট হন লাবণ্য কেনি। মাত্র ৩৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয় আমিরাত।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার খেলেও ৬৯ রানের বেশি যেতে পারেনি স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ পায় ৩৪ রানের স্বস্তির জয়। এই জয়ে তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্স-আপ হয়েছে বাংলাদেশ।
এবার সেমিফাইনালে তাদের সামনে শক্তিশালী ভারত। আগামী বৃহস্পতিবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।



