হৃদয় ছাড়া দায়িত্ব নিলেন না কেউ, ক্ষুব্ধ ফিল সিমন্স

তবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দলের লড়াকু মানসিকতা তাকে আশাবাদী করেছে। ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭ রানে হারলেও ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মনোভাব ইতিবাচক ছিল বলে মনে করেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আজ তাওহীদ হৃদয়ই শুধু লড়াই করেছেন
আজ তাওহীদ হৃদয়ই শুধু লড়াই করেছেন |ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। একের পর এক ব্যাটার দায়িত্বহীন শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। পুরো ইনিংসে ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু তাওহীদ হৃদয়, যিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের হয়ে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি করেন।

সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ব্যাটারদের নিয়ে হতাশা লুকাননি বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তার মতে, হৃদয় ছাড়া আর কোনো ব্যাটারের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব নেয়ার মানসিকতা দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল দুর্ভাগ্যজনক। সাইফ হাসানের খেলা একটি বল বোলার স্পেন্সার জনসনের হাতে লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে রান আউট হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর স্পেন্সারের বলেই খারাপ শট খেলে সাজঘরের পথ ধরেন সাইফ।

ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠে এসেও সুবিধা করতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমন। নাথান এলিস ও স্পেন্সার জনসনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রান তুলতে হিমশিম খেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি।

প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া নুরুল হাসান সোহানও শেষ ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। অ্যাডাম জাম্পার বলে দৃষ্টিকটু ভঙ্গিতে বোল্ড হন তিনি। একইভাবে শামীম হোসেনও বাজে শট খেলে দ্রুত ফিরে যান।

ব্যাটারদের এমন আসা-যাওয়ার মিছিলে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। তার ব্যাট থেকেই আসে দলের একমাত্র ফিফটি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে কোনো সমর্থন না পাওয়ায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে সিমন্স বলেন, দলের লক্ষ্য শুধু দ্রুত রান তোলা নয়, পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলাও। কিন্তু শুরুতে উইকেট হারানোর পর ব্যাটাররা ধৈর্য না দেখিয়ে নিজেদের উইকেট উপহার দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার সামর্থ্যও থাকতে হবে। শুরুতে দুই উইকেট হারানোর পরও ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়েছি। অধিনায়ক ছাড়া আর কারো ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি চোখে পড়েনি,’ বলেন বাংলাদেশ কোচ।

সাম্প্রতিক কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে, তার সাথে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পারফরম্যান্সের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সিমন্স। তার মতে, প্রথম ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতাই দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল।

তবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দলের লড়াকু মানসিকতা তাকে আশাবাদী করেছে। ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭ রানে হারলেও ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা ও মনোভাব ইতিবাচক ছিল বলে মনে করেন তিনি।

সিমন্সের ভাষায়, ‘বোলারদের লড়াই করার মতো পুঁজি দিতে পারেনি ব্যাটাররা। সেই কারণেই এই সিরিজ আমাদের জন্য ভীষণ হতাশাজনক হয়ে রইল।’