প্রথম টি-২০ : অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশের হার

বোলাররা চেষ্টা করেছেন বটে, তবে ম্যাচটা বাঁচাতে পারেননি। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে বাংলাদেশ
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে বাংলাদেশ |সংগৃহীত

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পরই নির্ধারণ হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। তবুও অপেক্ষা ছিলো বোলারদের থেকে অবিশ্বাস্য কিছুর। বোলাররা চেষ্টা করেছেন বটে, তবে ম্যাচটা বাঁচাতে পারেননি। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ১৯ ওভারে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি অধিনায়ক লিটন দাস। তার বদলে নেতৃত্ব দেন তাওহীদ হৃদয়। অধিনায়কত্বে অভিষেক হয় এই ব্যাটারের। তবে উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি।

এদিকে লিটন না থাকায় ব্যাটিং অর্ডারে অদলবদল আসে। যা দলের জন্য ভালো হয়নি। সুবিধা করতে পারেননি কেউই। অযথা শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন সবাই।

শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল। ২.৫ ওভারে ২৭ রান তোলেন তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান মিলে। তবে ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তামিম, আউট হন ৯ বলে ১০ রান করে।

১৪ বলে ২০ রান নিয়ে পাওয়ার প্লেতে ফেরেন সাইফও। তবুও বাকি ব্যাটারদের নিয়ে আশা ছিল। কিন্তু সবাই হতাশ করেছেন। চারে নেমে ৫ বলে ৮ রানে শেষ হয় তাওহীদ হৃদয়ের দৌড়।

দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা সৌম্য সরকারও ছিলেন ব্যর্থ। ১৮ বল খেলে ১৭ রান করেন তিনি। পাঁচে নামা পারভেজ ইমন করেন ১২ বলে ১০ রান। ৭৫ রানে ৫ উইকেট হারায় দল।

ছয়ে নামেন আব্দুল গাফফার সাকলায়েন। কিন্তু অভিষিক্ত এই অলরাউন্ডারকে রেখেই ফেরেন শামীম পাটোয়ারী (১)। সাকলায়েন করেন ১০ বলে ১০ রান। এরপর হাল ধরেন শেখ মেহেদী।

তার ব্যাটেই মান বাঁচায় বাংলাদেশ। স্পর্শ করে তিন অঙ্কের রান। তাকে রেখেই রিশাদ (৩) ও শরীফুল ইসলাম (৭) আউট হন। ১৭ ওভারে ১০৮ রানে ৯ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর শেষ উইকেটে মোস্তাফিজের সাথে জুটিতে ১২ বলে ২৩ রান যোগ করে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন মেহেদী। ২২ বলে ২৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এদিকে জুয়েল ডেভিস ও অ্যাডাম জাম্পার ৩ উইকেট ও ম্যাট রেনশর জোড়া উইকেটে এক ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় দল। মোস্তাফিজ আউট হন ৭ রান করে।

রান তাড়ায় অজিদের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারেই জশ ইংলিসকে (৫) ফেরান শরীফুল। ৪.৫ ওভারে মিচেল মার্শকে তুলে নেন মোস্তাফিজ। অজি অধিনায়ক করেন ১৪ বলে ১৩ রান।

এরপর কোপার কনোলি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে দলের চাপটা কমিয়ে দেন তিনি। যদিও ফিফটি পাবার আগেই তাকে থামান সাকলায়েন।

এরপর ১১.৩ ওভারে শেখ মেহেদী টিম ডেভিডকে ফেরালে ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারায় অজিরা। তাতে লাভ হয়নি, ম্যাট রেনশ ও অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরী সমান ১৮ রান করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন।

দুজনে শেষ দিকে এসে আউট হলেও ১০ বল হাতে রেখেই জিতে যায় অজিরা। বল হাতে অভিষিক্ত সাকলায়েন ৩.২ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট নেন। বাকিরা সবাই ১টা করে উইকেট নেন।