একটি টেস্ট সিরিজের ব্যর্থতা যে এতো বড় ঝড় তুলতে পারে, সেটিই এখন দেখছে পাকিস্তান ক্রিকেট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হার, দল থেকে একসাথে সাত ক্রিকেটারের বাদ পড়া, কোচিং স্টাফে পরিবর্তন—বিতর্কের যেন শেষ নেই।
এর মাঝেই এবার আলোচনায় ইমাম-উল-হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ইমামের চোট নিয়ে তদন্ত শুরু করছে পিসিবি। রিজওয়ানের শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে পায়ের চোটের কারণে দুই ইনিংসেই ব্যাটিংয়ে নামেননি ইমাম। তবে তার চোটের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি চোটের বিষয়টি বাড়িয়ে দেখিয়েছেন কিংবা ইনজুরির ভান করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পিসিবি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাতে জানা গেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইমামকে এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত শাস্তি নয়; তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে।
ইমামের জন্য বিষয়টি আরো জটিল হয়েছে পুরোনো একটি অভিযোগ সামনে আসায়। ২০২৫ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে ইনডোর নেট সেশনে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে বল লাগার পর তিনি চোটের লক্ষণ বাড়িয়ে দেখিয়েছিলেন—এমন অভিযোগও উঠেছিল। সেই ঘটনার তদন্তের প্রসঙ্গও নতুন করে সামনে এসেছে।
এদিকে শৃঙ্খলাজনিত কারণে রিজওয়ানও বোর্ডের নজরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলে তার জায়গা নিয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে জিও নিউজের সূত্র।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের দল থেকে এরই মধ্যে রিজওয়ান ও ইমামসহ সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে বাদ পড়েছেন সালমান আলি আগা, আলি উসমান, আমের জামাল, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ও খুররম শেহজাদ।
শুধু ক্রিকেটারদের নিয়েই নয়, পাকিস্তান দলের কোচিং ও নির্বাচক প্যানেল নিয়েও চলছে বড় ধরনের পরিবর্তন। টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে অব্যাহতি দেয়ার পর নির্বাচক প্যানেলের সদস্য মিসবাহ-উল-হকও পদত্যাগ করেছেন।
সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতা যেন পাকিস্তান ক্রিকেটে একের পর এক সঙ্কটের দরজা খুলে দিয়েছে। আর সেই সঙ্কটের মাঝেই ইমাম ও রিজওয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।



