শুরুর ধাক্কা সামলে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেল বাংলাদেশ

বিপদ বাড়তে দেননি লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা। জমে ওঠে তাদের জুটি। তবে জুটিতে ১০৭ বলে ৯২ রান আসার পরই মাঠ ছাড়তে হয় লিটনকে। রিটায়ার্ড হার্ট হন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আজ দারুণ খেলেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস
আজ দারুণ খেলেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস |সংগৃহীত

শুরুর ধাক্কা সামকে দারুণভাবেই ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইট ওয়াশ করতে চ্যালেঞ্জিং একটা পুঁজি দাঁড় করিয়েছে স্কোরবোর্ডে। এখন বোলারদের ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়।

৬১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় ৫ উইকেটে ২৭৪ রান করেছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে ৮৩, লিটন দাস ৭৮ বলে ৫৮* ও মোসাদ্দেক হোসেন ৫১ বলে করেন ৫৬ রান।

রানের পরিমাণ আরো বেশি হতে পারতো। কিন্তু শেষ দিকে সুবিধা করতে পারেননি ব্যাটাররা। শেষ ৫ ওভারে এসেছে মাত্র ৩২ রান। এই সময়ে শেখ মেহেদী করেন ৯ বলে মাত্র ৩ রান। যা পিছিয়ে দেয় দলকে।

রোববার মিরপুরে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই জেভিয়ার বার্টলেটের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার (২)।

এরপর তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টায় ছিলেন। তবে বেশিক্ষণ পারলেন না। দুজনেই ফেরেন প্রায় একইসাথে, রেনশর বলে ভুল শট খেলে।

পাওয়ার প্লের শেষ বলে অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে ফিরেছেন তামিম। তাতে ১০ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৫৩ রান আসলেও চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তামিম আউট হন ২০ বলে ১৯ করে।

তাতে ভাঙে শান্তর সাথে তার ৫৬ বলে ৫১ রানের জুটি। তবে সাথী হারিয়ে ফেলার পর বেশিক্ষণ টেকেননি শান্তও। ৮ রান যোগ হতেই আউট হন ৫০ বলে ২৪ করে। ভেঙে যায় টপ অর্ডার।

তবে বিপদ বাড়তে দেননি লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা। জমে ওঠে তাদের জুটি। তবে জুটিতে ১০৭ বলে ৯২ রান আসার পরই মাঠ ছাড়তে হয় লিটনকে। রিটায়ার্ড হার্ট হন তিনি।

লিটনের পায়ের পেশিতে অস্বস্তি বোঝা যাচ্ছিল অনেক্ষণ ধরেই। শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়ে উঠে যান ৭৩ বলে ৪৮ রান নিয়ে। তার বদলে মাঠে আসেন মোসাদ্দেক। তবে তিনিও সামলে নেন পরিস্থিতি।

হৃদয়ের সাথে মিলে সাবলীল ব্যাট করতে থাকেন শুরু থেকে। এই জুটিও বড় হয়। দুজনে যোগ করেন ৮৩ বলে ৯৩ রান। দুজনেই পেয়ে যান ফিফটি। হৃদয় তো হাঁটছিলেন শতকের পথেই।

তবে দলের রান বাড়াতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন ১৭ রান দূরে থাকতেই। অন্যদিকে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ বছরে মোসাদ্দেকের ফিফটি যেখানে ৩টি, সেখানে শেষ ৩ ম্যাচে পেয়ে যান দ্বিতীয় ফিফটি।

এদিকে হৃদয় আউট হওয়ার পর মাঠে আসেন ৩ বছর পর ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়া শেখ মেহেদী। তবে সুযোগ পেয়েও আশাহত করেন তিনি। এরপর তিনি আউট হলে মাঠে ফেরেন লিটন দাস।

মাঠে এসে মেটান অপেক্ষা। ১১ বছর, ২৭ ওয়ানডে ইনিংসের পর এই প্রথম মিরপুরে পান ফিফটির দেখা। শেষ ওভারে একটা ছক্কা মেরে রানটা তিনিই ২৭৪ পর্যন্ত নিয়ে যান।

অজিদের হয়ে আজ জোড়া উইকেট নিয়েছেন জেভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশ।