দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরালো বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিকদের। ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে ৩২ রানে হারিয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।
ব্যাটিং ব্যর্থতায় বুলাওয়েতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হেরে বসে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ালো সফরকারীরা। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটা রূপ নিল অলিখিত ফাইনালে।
আজ শুক্রবার টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ হোসেন।
এদিন ব্যাট করতে একবার-দুইবার নয়, পাঁচবার জীবন পান সাইফ হাসান। আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমও বেঁচে যান একবার। জিম্বাবুয়ের ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় দু'জনেই পেয়ে যান ফিফটি।
তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান মিলে গড়েন ১৪.৪ ওভারে ১২০ রানের জুটি। যা যেকোনো উইকেটে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা জুটি। আর উদ্বোধনী জুটিতে দ্বিতীয় সেরা যুগলবন্দী।
তবে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে এটি যেকোনো উইকেটে সেরা জুটি। এর আগে ২০১৩ সালে সাকিব আল হাসান ও শামসুর রহমান মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৮ রান যোগ করেছিলেন। ১৩ বছর পর এসে ভাঙল সেই রেকর্ড।
যাহোক, দুই ওপেনারের জুটিতে ভর করে বেশ ভালোই শুরু পায় বাংলাদেশ। তবে ভালো শুরুটা ধরে রাখা যায়নি শেষ পর্যন্ত। ১২০ রানে জুটি ভাঙার পরের ২১ রান তুলতেই হারায় আরো ৪ উইকেট।
৪ বলের মাঝে ফেরেন দুই ওপেনার। সাইফকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সিকান্দার রাজা, ৪৫ বলে ৫৫ রান করে আউট হন ভাগ্যবান এই ব্যাটার। ৪৪ বলে ৫৮ রান আসে তামিমের ব্যাটে।
এরপর দ্রুত আরো ৩ উইকেট হারায় দল। তাওহীদ হৃদয় ৬, পারভেন ইমন ১ ও ৪ রান করে আউট হন নুরুল হাসান সোহান। তবে বিপদ আর বাড়তে দেননি ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মিলে।
দু’জনে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৯ বলে ৪৫ রানের জুটি। সাইফুদ্দিন ১০ বলে ৩১ ও ইয়াসির ১২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাবা ও ব্রাড ইভান্স দুটো করে উইকেট নেন।
বুলাওয়েতে এতো রান তাড়া করে আগে জেতেনি কোনো দল। পারেনি জিম্বাবুয়েও। দুই স্পিনার শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ৯.৩ ওভারে ৮০ রানেই হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। ২১ রানেই প্রথম ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
শেখ মেহেদী মারুমানি ও ডিওন মায়ার্সকে ফেরান সমান ৪ রানে। ব্রায়ান বেনেটকে (১১) আউট করেন নাহিদ রানা। এরপর সিকান্দার রাজা ও মিল্টন শুম্বা মিলে হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে লাভ হয়নি।
পরপর দুই ওভারে এসে দু’জনকেই ফেরান রিশাদ। রাজা ১২ বলে ২৮ ও মিল্টন ২০ বলে ১৯ রান করেন। তবে বার্লের ১৯ বলে ২৯ রানে ভর করে তিন অঙ্কে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে খেলা জমিয়ে তুলেন ব্রাড ইভান্স।
তবে ১৮.৪ ওভারে শেষ হয় তার দৌড়। ১৪ বলে ২৫ রান করে আউট হন তিনি। শেষ ওভারে রিশাদ মুজারাবানিকে ফেরালে শেষ হয় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন রিচার্ড এনগারাবা।
বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে রিশাদের ৪ উইকেট ছাড়াও ৩ উইকেট নেন শেখ মেহেদী। ১টা করে উইকেট নেন নাহিদ রানা, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও সাইফ হাসান।



