মোহামেডানের জটিল সমীকরণ, শিরোপা জয়ের খুব কাছে আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক

১৬ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের শিরোপা স্বপ্ন দেখা মোহামেডান ১০ম রাউন্ডে লোপার্ডসের কাছে হেরে গেছে ৫ উইকেটে। এই ম্যাচে মোহামেডান পায়নি তাদের তারকা ক্রিকেটারদের।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী ক্রিকেট দল
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী ক্রিকেট দল |নয়া দিগন্ত

শিরোপা খরা কাটানোর পথেই ছিল মোহামেডান। তবে একদম শেষ মুহূর্তে এসে হিসেবে গড়মিল করে বসেছে সাদা-কালোরা। তাতে বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বীতা, শিরোপার ঘ্রাণ পাচ্ছে আরো দুই ক্লাব আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক।

১০ ম্যাচ শেষে মোহামেডান, আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক— তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ১৬। এদিকে তিন দলের ম্যাচ বাকি আর মাত্র ১টি করে। ফলে মুখোমুখি লড়াইয়ের সমীকরণটা চলে আসছে সামনে।

যেখানে সবচেয়ে সহজ সমীকরণ আবাহনীর। নিজেদের শেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। কেননা মুখোমুখি দেখায় প্রাইম ব্যাংকের সাথেও জিতেছিল দলটা।

অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংকের শিরোপা জিততে সহায়তা লাগবে মোহামেডানের। মোহামেডান আবাহনীকে হারালেও প্রাইম ব্যাংক শেষ ম্যাচে ঢাকা লেপার্ডসকে হারাতে পারলে শিরোপা যাবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের হাতে।

কঠিন সমীকরণ মোহামেডানের জন্যও। শেষ ম্যাচে যেমন তাদের আবাহনীকে হারাতে হবে, তেমনি কামনা করতে হবে ঢাকা লোপার্ডসের সাথে প্রাইম ব্যাংকের হার। অন্যথায় বাড়বে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অপেক্ষা।

মোহামেডানের শিরোপা অপেক্ষা বাড়িয়েছে মূলত লোপার্ডই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে ৪ উইকেটে হারিয়ে আসর শুর‍ু করা দলটা আজ (সোমবার) হারিয়ে দিয়েছে মোহামেডানকেও।

১৬ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের শিরোপা স্বপ্ন দেখা মোহামেডান ১০ম রাউন্ডে লোপার্ডসের কাছে হেরে গেছে ৫ উইকেটে। এই ম্যাচে মোহামেডান পায়নি তাদের তারকা ক্রিকেটারদের।

জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের কারণে তাওহিদ হৃদয়সহ চার ক্রিকেটার ছিলেন না একাদশে। তাতেই হোটচ খায় মোহামেডান। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২২৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি দলটি। দলের হয়ে মুশফিকুর রহিম করেন সর্বোচ্চ ৬৮ রান।

জবাবে লেপার্ডসের ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ৬৬ ও মুমিনুল হকের টি-টোয়েন্টি মেজাজে করা ৭৭ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ৩৪.৩ ওভারে জয় পায় লেপার্ডস।

মোহামেডানের হারের দিনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে হারিয়ে নিজেদের কাজ সেরে রেখেছে আবাহনী। প্রথমে ব্যাট করে মাহিদুল ইসলামের ৬৬ রানে ভর করে ২১০ রান তোলে তারা।

জবাবে শেষ উইকেটে আজিজুল হাকিম (৪১) ও মোহাম্মদ রুবেলের (৩৩) ৭৩ রানের জুটি আবাহনীকে কিছুটা ভয় ধরিয়ে দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত গাজী গ্রুপকে ১৮৪ রানে অলআউট করে ২৬ রানের জয় পায় আবাহনী।

অন্যদিকে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়েও ১৮ রানের জয় পায় প্রাইম ব্যাংক। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে মূল নায়ক আবু হায়দার রনি।

তবে দিনের সব আলো কেড়ে নেন হাবিবুর রহমান সোহান। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটিই বাংলাদেশী কারো দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।