দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও হার, সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের

টেস্টে অসহায় আত্মসমর্পণের পর এবার ওয়ানডেতেও হলো ভরাডুবি। প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য হারের পর এবার সিরিজও খোয়ালো টাইগাররা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়াই করলেও হেরে গেছে ১৩ রানে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হতাশার ব্যাটিংয়ে  তানজিদ–হৃদয়দের চেষ্টা বিফলে যায়
হতাশার ব্যাটিংয়ে তানজিদ–হৃদয়দের চেষ্টা বিফলে যায় |সংগৃহীত

টানা চারটি সিরিজ জিতে উড়ছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজ হারায় নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকেও। সেই টাইগাররাই কিনা এবার সিরিজ হেরে বসল জিম্বাবুয়ের কাছে।

টেস্টে অসহায় আত্মসমর্পণের পর এবার ওয়ানডেতেও হলো ভরাডুবি। প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য হারের পর এবার সিরিজও খোয়ালো টাইগাররা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়াই করলেও হেরে গেছে ১৩ রানে।

হারারেতে বৃহস্পতিবার টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৪৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে আবারো ব্যাটিং ব্যর্থতায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি টাইগাররা, ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে গুটিয়ে গেছে মেহেদী মিরাজের দল।

এই হারে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে স্বাভাবিকভাবেই বড় ধাক্কা খাবে বাংলাদেশ। আর এই ধাক্কা আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়া কঠিন করে তুলতে পারে। তবে তার চেয়েও ভাবনার বিষয় ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা।

২৪৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য। শুর‍ুতেই তাই ভালো কিছু করতে হতো টপ অর্ডারদের। কিন্তু কাঙ্খিত শুরু পায়নি দল, ৩.২ ওভারে সৌম্য সরকারকে (৫) ফেরান মুজারাবানি। দলীয় ১৩ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

তিনে নেমে থিতু হতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। ফেরেন ১৬ বলে ৯ রান করে। ৮.৪ ওভারে ৩৮ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে তানজিদ তামিম পথ দেখান দলকে।

তাদের ব্যাটে বড় একটা জুটির অপেক্ষায় বাংলাদেশী সমর্থকেরা, সেই চাওয়া পূর্ণ হয়। দু'জনে গড়েন ১০৮ বলে ৮৪ রানের জুটি। জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে, ৭০ বলে ৫৭ রানে থামে তার ইনিংস।

এরপর নুরুল হাসান সোহান সঙ্গ দেন হৃদয়কে। সঙ্গ পেয়ে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে ইনিংস বড় হয়নি তারও, ৯০ বলে ৬০ থামে তার দৌড়। ৩৬.১ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১৬৯/৪।

ছয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন। ৯ বলে ৭ রান করে মুজারাবানির শিকার হন তিনি। তাতে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তখন সবার চোখ ছিল নুরুল হাসান সোহানের দিকে।

কিন্তু দলকে জিতিয়ে ফেরা হয়নি তারও। ৪২ ওভারে ২০৭ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সোহান আউট হন ৪১ বলে ৩৮ রান করে। তখনো জয়ের জন্য ৮ ওভারে ৪১ রান প্রয়োজন ছিল টাইগারদের।

তবে এরপর দ্রুত আরো দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ২২২ রানে ৮ উইকেট হারায় দল। এরপর মেহেদী মিরাজ মাঠে থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি, শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন ৩৩ বলে ২৭ করে।

২ উইকেটে ১২২ রান থেকে কিনা পরের ১১২ রান তুলতেই টাইগাররা হারায় ৮ উইকেট। রিচার্ড এনগারাভা ৩, ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্রাড ইভান্স নেন ২টি করে উইকেট।

এর আগে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারে কোনো রান না দিয়ে দুর্দান্ত এক ডেলেভারিতে ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকেরা।

দ্বিতীয় উইকেট আসতেও সময় লাগেনি। দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে এসে ফেরান ইনোসেন্ট কাইয়াকে। ৭ বলে ৪ রান করে মেহেদী মিরাজকে ক্যাচ দেন কাইয়া। ৮ রানে ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

৯ম ওভারে তৃতীয় আঘাত করেন নাহিদ রানা। আগের ম্যাচে রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেট নেয়া এই পেসার দিনের প্রথম উইকেট নেন ক্রেইগ আরভিনকে (২০ বলে ৯) ফিরিয়ে। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা।

এরপর ওয়েসলে মাধেভেরেকে নিয়ে বেন কারান ৩৪ রানের জুরি গড়েন। তবে জুটিটা বড় হতে দেননি মিরাজ। তার বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন মাধাভেরে। ফেরেন ৩০ বলে ১৫ করে।

তবে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে নিয়ে যান বেন কারান। সিকান্দার রাজার সাথে ৬৮ ও ব্রাড ইভান্সের সাথে গড়েন ৮০ বলে ৯৯* রানের অপরাজিত জুটি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে ১৩৫ বলে ১১ অপরাজিত থাকেন কারান।

অন্যদিকে ইভান্স করেন ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান। সিকান্দার রাজার ব্যাটে আসে ৫৩ বলে ৩৩। তাতেই শুরুর ধস কাটিয়ে আড়াই শ’র কাছাকাছি সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট নেন।