নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটার খুঁজে বের করার লক্ষ্যে শুক্রবার শুরু ‘জিডি ট্রফি’

২৮ আগস্ট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের পথচলা শুরু হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিসিবি আয়োজিত জিডি ট্রফির এই টুর্নামেন্টে তিনটি বয়সভিত্তিক দল অংশ নেবে
বিসিবি আয়োজিত জিডি ট্রফির এই টুর্নামেন্টে তিনটি বয়সভিত্তিক দল অংশ নেবে |সংগৃহীত

দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘গেম ডেভেলপমেন্ট (জিডি) ট্রফি, যা আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে।

বিসিবি আয়োজিত জিডি ট্রফির এই টুর্নামেন্টে তিনটি বয়সভিত্তিক দল অংশ নেবে। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের লক্ষ্যে ব্যাট-বল হাতে লড়াই করবে।

৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে প্রতিটি দল অন্য দুই দলের বিপক্ষে দু’বার করে খেলবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

২৮ আগস্ট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের পথচলা শুরু হবে।

এরপর ৩০ আগস্ট অনূর্ধ্ব-২৩ দল লড়বে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে এবং ১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

লিগের ফিরতি পর্বে ৩ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-১৯ খেলবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে, ৫ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-২৩ দল লড়বে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে এবং ৭ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-১৭ দল মুখোমুখি হবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের।

এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল আগে বলেছিলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোনো খেলোয়াড় যদি তিনটি উইকেট নেয় বা ৫০ রান করে, তবে তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, সে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করার জন্যও এটি আমাদের একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম হবে।’

তামিম আরো জানান, সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের জন্য অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে খেলা কঠিন হতে পারে। তবে প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘হয়তো তারা খুব কম রানে অল-আউট হয়ে যেতে পারে, আবার হয়তো খুব ভালোও খেলতে পারে। কিন্তু এই বয়সে যদি আমরা তাদের এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না করি, তবে তাদের মধ্যে কোনো বিশেষ প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে কি না, তা বোঝার কোনো উপায় ক্রিকেট বোর্ড বা নির্বাচকদের থাকবে না।’

বিসিবি সভাপতি আরো জানান, তরুণ ক্রিকেটাররা প্রায়ই বয়স-ভিত্তিক ক্যাম্প এবং সমমানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

তামিম বলেন, ‘এটি কেবল এই মৌসুমের জন্য নয়। আমি গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি, বার্ষিক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে। একইভাবে, আমরা নারী ক্রিকেটেও এমন কিছু চালু করার চেষ্টা করব।’

খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও অর্থ প্রদান করা হবে।

তামিম আরো বলেন, ‘অর্থ আমাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

অনূর্ধ্ব-১৭ দল : নয়ন বাবু, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, সৌরভ কোরমোকার, ইমরান ভূঁইয়া, লরেন্স রয়, হোসেন শেখ (অধিনায়ক), রিফাত হাওলাদার, আজহা বিন মুহিব, ইয়াসিন মজুমদার, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আলিফ হাসান লিখন, সাকিবুল ইসলাম, সিফাত আলী, মোহাম্মদ মাজেদুল, নূর আলম।

স্ট্যান্ড বাই: বায়েজিদ বোস্তামী, ফরহাদ আহমেদ, সুজন মিয়া, মোহাম্মদ ইফতেখার, আয়মান হোসেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ দল : আবদুল্লাহ আল মুহি, এসকে জারিফ সিয়াম, কাওসার আহমেদ, আহসান আল মুমিন, ফারহান সাদকি, আদ্রিত ঘোষ, ফরিদ হোসেন ফয়সাল (অধিনায়ক), রবিউল হাসান অনিক, আল রাফি, আবদুর রহিম, রুবায়েত ইসলাম রিজন, তফিউল আলম তামিম, শেখ আতিকুর রহমান আকাশ, শাকিল আহমেদ, রাকিবুল হাসান।

স্ট্যান্ড বাই : মাজহারুল ইসলাম সাগর, আল আমিন রনি, এজেএসএম প্রথম কুমার নিলয়, রাকিব খান, শহিদুল ইসলাম, মেহরাব হাসান সিজান।

অনূর্ধ্ব-২৩ দল : জাওয়াদ আবরার, আদিল বিন সিদ্দিক, রিফাত বেগ, আজিজুল হাকিম তামিম, কালাম সিদ্দিকী আলিন (অধিনায়ক), খালিদ হাসান, রিজান হোসেন, আহরার আমিন, দেবাশিস সরকার দেবা, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, শেখ পারভেজ জীবন, মাহফুজ রাব্বি, নুহায়েল সন্দীদ, স্বাধীন ইসলাম, মহিউদ্দিন তারেক, রাহিন আহমেদ, সাদ ইসলাম রাজিন, মারুফ মৃধা।