দিনটা শুরু হয় মিচেল স্টার্কের তাণ্ডবে, আর শেষটা টানেন শরিফুল ইসলাম। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনটা যেন ছিল দুই বাঁহাতি পেসারের লড়াই। দিনের ১৮টি উইকেটের ১২টিই নিয়েছেন এই দুই বোলার।
শরিফুলের পাল্টা জবাবের ফলে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসের পরও তাই ম্যাচ থেকে এখনো ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আগে ব্যাট করা ৬৪ রানের বিপরীতে দিন শেষ হওয়ার আগে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে অজিরা।
বোলারদের এই দিনে সব মিলিয়ে ১০১ রানে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ফিফটি তুলে মাঠ ছেড়েছেন ক্যামেরন গ্রিন ৫১ ও নাথান লায়ন ১০ রানে। শরিফুল ছাড়া একটা করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন ও মেহেদী মিরাজ।
শনিবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬.৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন মিচেল স্টার্ক।
এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর মুমিনুল হক ও লিটন দাসও স্টার্কের শিকার হন। মাত্র ২২ বলের মাঝে ৫ উইকেট নেন স্টার্ক!
টেস্ট ক্রিকেটে এটি পাঁচ উইকেট পাওয়ার অন্যতম দ্রুততম ঘটনা। আর তার এমন কীর্তিতে ধসে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৫/৬। যার ৪ জনই আউট হন ০ রানে!
কেবল মুমিনুল হক ১৬ বলে ৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৪২ বলে ৫ করে রানের দেখা পান। ৪৮ বলে ১১ রান নিয়ে বিরতিতে যান মেহেদী মিরাজ। তবে বিরতি থেকে ফিরে রান আর বাড়াতে পারেননি তিনি, শিকার হন প্যাট কামিন্সের।
এরপর দ্রুত আরো দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ৩৬ বলে ১০ ও তাসকিন আহমেদ ৭ বলে ১ রান করেন। ২৮.১ ওভারে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারায় সফরকারীরা। তখন উঁকি দিতে থাকে আরো একটা লজ্জা।
মনে হচ্ছিল হয়তো ভাঙতে যাচ্ছে টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের (বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৮) লজ্জা। তবে শেষ উইকেট জুটিতে তাও এড়ানো গেছে। শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম মিলে টেনেছেন দলকে।
তাদের দু’জনের ব্যাটে পঞ্চাশ পেরোয় বাংলাদেশের ইনিংস। পেরোয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২২ সালে করা ৫ও ও ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জাও।
৩৪ ওভারের শেষ বলে স্টার্ককে ৬ষ্ঠ উইকেট উপহার দেন শরিফুল ইসলাম। তবে সবার শেষে ব্যাট করতে নামা শরিফুলই দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন- ১৪। এছাড়া ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।
মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। এছাড়া প্যাট কামিন্স ৩ ও জশ হ্যাজলউড নেন অন্য উইকেটটি।
৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তখন প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু বল হাতে গল্পটা বদলে দেন শরিফুল ইসলাম। স্টার্ক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দিতে থাকেন পাল্টা জবাব।
ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বলে ম্যাট রেনশ ৮ রানে ফিরলে স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি হয়। এরপর নিজের প্রথম ওভারেই পরপর ট্রাভিস হেড (২২) ও মার্নাস লাবুশেনকে (৪) ফিরিয়ে দেন শরিফুল।
অস্ট্রেলিয়া ৪০ রানে ২ উইকেট হারানোর পরও বিপদ কাটেনি। স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও আবার আঘাত হানেন শরিফুল।
স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে ভাঙেন ৭৭ রানের জুটি। স্মিথ ফেরেন ৪৪ রানে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার নিচের সারিতেও ধস নামান শরিফুল। একে একে আরো উইকেট তুলে নিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেন এই বাঁহাতি পেসার। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন ক্যামেরন গ্রিন। আগের টেস্টে সেঞ্চুরি করা এই অলরাউন্ডার ম্যাকাইয়েও ধারা ধরে রেখেছেন।
তবু বাংলাদেশের জন্য আশার জায়গা একটাই- অস্ট্রেলিয়ার হাতে আছে মাত্র ২ উইকেট। সকালে দ্রুত সেই ২ উইকেট তুলে নিতে পারলে লিড খুব বেশি দূরে যেতে দেবে না বাংলাদেশ।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটাররা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেটিই হয়ে উঠবে ম্যাকাই টেস্টের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে প্রথম দিন শেষে ম্যাচের পাল্লা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ভারী হলেও, লড়াইটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।



