সাবালেঙ্কার টানা তৃতীয় শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ করে চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনা

প্রথম সেটের পঞ্চম গেমেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রিবাকিনা। দুর্দান্ত গ্রাউন্ডস্ট্রোক দিয়ে সাবালেঙ্কাকে বারবার পেছনে ঠেলে দিতে থাকেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এলেনা রিবাকিনা
এলেনা রিবাকিনা |সংগৃহীত

আরিনা সাবালেঙ্কার টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন এলেনা রিবাকিনা। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার মধ্য দিয়ে নিজের উত্থানকে আরো উজ্জ্বল করে তুলেছেন রিবাকিনা।

নিউইয়র্কে সেমিফাইনালে ওঠার সাথে সাথেই সাবালেঙ্কাকে টপকে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ওঠা নিশ্চিত করেছিলেন রিবাকিনা। এরপর ফাইনালে তিনি ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে জয় নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন।

২০২২ সালে উইম্বলডনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন তিনি। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জেতেন রিবাকিনা।

ফাইনাল শেষে উচ্ছসিত রিবাকিনা বলেন, ‘এই মুহূর্তে সত্যি বলতে আমি কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। টুর্নামেন্টে এসে এমন কিছু হবে, আমি একেবারেই আশা করিনি। আমি কিছুটা চোটের সাথে লড়াই করছিলাম। কিন্তু কোনোভাবে সবকিছু আমার পক্ষে একসাথে মিলে গেছে।’

ফ্লাশিং মিডোজে সাবালেঙ্কার ২০ ম্যাচের জয়রথ থামিয়ে দেন তিনি। ২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর থেকে এখানে আর কোনো ম্যাচ হারেননি সাবালেঙ্কা।

‘আমি যদি একটু ভালো খেলতে পারতাম, ভালো লাগত,’ আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের দর্শকদের উদ্দেশে বলেন সাবালেঙ্কা। আবেগে তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল, ‘তবে মনে হয়, আগামী বছর।’

ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের পর তৃতীয় নারী হিসেবে টানা তিনবার ইউএস ওপেন জেতার লক্ষ্যে খেলছিলেন তিনি।

২৮ বছর বয়সী বেলারুশের এই খেলোয়াড় দ্বিতীয় সেটে সাহসিকতার সাথে ঘুরে দাঁড়ান। ফাইনালের শেষ গেমে প্রথমবারের মতো রিবাকিনার সার্ভ ভেঙে তৃতীয় সেটে ম্যাচ গড়ান তিনি।

কিন্তু নিজের চেনা আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে আবারো দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান রিবাকিনা। হতাশ সাবালেঙ্কাকে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দেন তিনি। নেটে রিবাকিনার সাথে সংক্ষিপ্ত আলিঙ্গনের পর কোর্টের পাশের চেয়ারে বসেই র‌্যাকেট ভেঙে ফেলেন সাবালেঙ্কা। অন্যদিকে রিবাকিনা দর্শকদের উচ্ছ্বসিত অভিনন্দন গ্রহণ করেন।

‘আজ আমি যে মানের টেনিস খেলেছি, তাতে অবশ্যই আমি খুব একটা খুশি নই,’ বলেন সাবালেঙ্কা। ‘তবে সে অবিশ্বাস্য সার্ভ করেছে। সে খুব আক্রমণাত্মক খেলেছে, দুর্দান্ত টেনিস খেলেছে।’

‘আজ সে স্রেফ আমার চেয়ে ভালো খেলোয়াড় ছিল,’ যোগ করেন সাবালেঙ্কা। ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করলেন তিনি।

নারী টেনিসের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই হিটার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক টেনিস খেলেন। ডব্লিউটিএ ট্যুরের সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ংকর সার্ভের মালিক রিবাকিনা নিজের প্রথম সার্ভ ঠিকমতো ফেলতে পারছিলেন না। তবে যখন পারছিলেন, তখন তা ছিল বিধ্বংসী।

সাবালেঙ্কার সার্ভের ওপর পুরো ম্যাচজুড়েই চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। মোট ১২টি ব্রেক পয়েন্টের সুযোগ তৈরি করে তিনটি কাজে লাগান রিবাকিনা।

প্রথম সেটের পঞ্চম গেমেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রিবাকিনা। দুর্দান্ত গ্রাউন্ডস্ট্রোক দিয়ে সাবালেঙ্কাকে বারবার পেছনে ঠেলে দিতে থাকেন তিনি।

চাপে পড়ে সাবালেঙ্কা ব্রেক পয়েন্টে ডাবল ফল্ট করেন। এরপর একটি বল আকাশের দিকে মেরে ‘বল অ্যাবিউজ’-এর কারণে কোড ভায়োলেশনের সতর্কবার্তাও পান।

সাবালেঙ্কাকে ক্রমেই মরিয়া দেখাচ্ছিল। ৫-৩ গেমে সেটে টিকে থাকার জন্য সার্ভ করার সময় তিনি বেসলাইনের কয়েক ফুট বাইরে একটি ওভারহেড শট মারেন। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে একটি এস দিয়ে গেমটি শেষ করেন।

কিন্তু রিবাকিনাকে থামানো যায়নি। ম্যাচে নিজের প্রথম ডাবল ফল্ট করলেও সামান্য স্নায়ুচাপ কাটিয়ে একটি জোরালো ব্যাকহ্যান্ড উইনার থেকে ৬-৪ গেমে সেট জিতে নেন তিনি। এরপর নির্ধারক র‌্যালিতে সাবালেঙ্কার শট বাইরে চলে যায়।

দ্বিতীয় সেটেও একই ধরনের লড়াই দেখা যায়। তৃতীয় গেমে সাবালেঙ্কা দুটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচিয়ে বড় একটি সার্ভ মেরে নিজের সার্ভ ধরে রাখেন।

রিবাকিনার সার্ভে তখনো কোনো ধরনের অগ্রগতি করতে পারেননি সাবালেঙ্কা। তবে নিজের সার্ভে যেন নতুন কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। পরপর দুবার ‘লাভ’ গেমে সার্ভ ধরে নিয়ে ৫-৪ লিড নেন।

ম্যাচে সাবালেঙ্কার প্রথম ব্রেক পয়েন্টগুলো থেকে সেটটি জিতে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা কাজে লাগাতে পারেননি।

তবুও আত্মবিশ্বাস বাড়ছিল সাবালেঙ্কার। ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর কর্তৃত্বের সাথে রিবাকিনার সার্ভ ভেঙে তৃতীয় সেটে ম্যাচ নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত ছিল কেবল সাময়িক স্বস্তি।