চলতি সপ্তাহে জাপানে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের আবাসন ব্যবস্থাকে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে’ বলে অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। একইসাথে তারা সতর্ক করেছেন, কক্ষের ‘তীব্র সঙ্কট’ রয়েছে।
শিপিং কনটেইনারের আদলে তৈরি কেবিনের বিছানা এতটাই ছোট যে খেলোয়াড়রা পুরোপুরি পা মেলে শুতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাস্কেটবল কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ থাকার জন্য এয়ারবিএনবির আশ্রয় নিয়েছেন।
খরচ কমানোর লক্ষ্যে এবারের গেমসে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাথলেট ভিলেজ রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে আয়োজকরা একটি ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কাঠের কেবিন এবং বিভিন্ন হোটেলের ওপর নির্ভর করছেন।
নাগোয়া শহর ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শনিবার শুরু হবে। তবে ফুটবল ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুং জে-ইয়ং এএফপিকে বলেন, পুরুষ বাস্কেটবল দলের থাকার জন্য যে কেবিন দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে অসন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ ব্যবস্থা। দুই মিটারের বেশি লম্বা খেলোয়াড়রা বিছানায় পা পর্যন্ত মেলে শুতে পারেন না। এটা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।’
দক্ষিণ কোরিয়ার বাস্কেটবল দলের সদস্য বিয়ন জুন-হিয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তার কেবিনের চুইয়ে পড়া পানির কল এবং পানিতে ভেজা মেঝে দেখা যায়।
ভিডিওটির সাথে তিনি লিখেছেন, ‘দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।’
গেমস চলাকালীন দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় এসব কেবিনে প্রায় ২,০০০ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা থাকবেন।
কেবিনগুলোর অবস্থা নিয়ে ভারতীয় ক্রীড়া কর্মকর্তারাও এতটাই উদ্বিগ্ন যে, নিজেদের খেলোয়াড়দের সেখানে থাকার অভিজ্ঞতার সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য তারা একই ধরনের কেবিনের প্রতিরূপ তৈরি করেছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জুং অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্বেগের বিষয়ে আয়োজকরা কোনো সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জুং বলেন, ‘আয়োজকরা এখনো কিছু বলেননি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে কোরিয়ান স্পোর্ট অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটির সাথে ব্যাপক আলোচনা করছি।’
গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সময় কয়েক শ’ খেলোয়াড়কে তাদের আবাসন থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
আগামী কয়েক দিনেও আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এশিয়ান গেমসে ১৭,০০০-এর বেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার অংশ নেওয়ার কথা, যা অলিম্পিক গেমসের তুলনায়ও বেশি।
স্থানীয় আয়োজকরা শুরুতে ১৫,০০০ জনের আশা করেছিলেন। তবে গত মাসে তারা বলেছিলেন, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো জনবল বা বাজেট- কোনোটিই তাদের নেই।
পরে এশিয়ান গেমসের আয়োজক সংস্থা অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানায়, প্রত্যেকের থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
তারকা ক্রিকেটাররাও উন্নতমানের হোটেলের স্বল্পতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার অলিম্পিক কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, গেমস শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও আবাসন নিয়ে সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে শুধু এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো দলের জন্যই নয়, আইচি-নাগোয়া এলাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের জন্যও গুরুতর আবাসন সঙ্কট রয়েছে।’
‘সমস্যার সমাধান করতে এবং এ ধরনের কোনো সমস্যা যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
ফিলিপাইন অলিম্পিক কমিটির সভাপতি আব্রাহাম টোলেন্তিনো জানান, তার দেশের সব খেলোয়াড়ের জন্য কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তা, যেমন কোচদের, বিভিন্ন হোটেল ও এয়ারবিএনবিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইতালির ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনা মঙ্গলবার নাগোয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাহাজটিতে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ খেলোয়াড় থাকবেন।
বাকি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা হোটেলে থাকবেন। এর মধ্যে টোকিওর হোটেলও রয়েছে, যেখানে সাঁতার, ডাইভিং ও অশ্বারোহী ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।



