পৃথিবীর বুক থেকে সব গাছপালা চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও, জলবায়ু মডেল ব্যবহার করে সেই শেষ দিনটির আনুমানিক সময় হিসাব করেছেন একদল গবেষক। তারা বের করেছেন, ঠিক কবে এই গ্রহের শেষ সবুজ পাতাটি ঝরে যাবে।
কোটি কোটি বছর পর এমন এক সময় আসবে যখন পৃথিবীতে কোনো গাছ, ফুল বা ঘাস অবশিষ্ট থাকবে না। শেষ পাতাটিও শুকিয়ে যাবে এবং আমাদের নীল গ্রহটি তার চিরচেনা সবুজ রঙ হারাবে চিরতরে।
কিন্তু কবে আসবে সেই দিন? ইরানের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘ব্লু মার্বেল স্পেস ইনস্টিটিউট’র দুজন বিজ্ঞানী এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন একটি গবেষণা চালিয়েছেন। পৃথিবীর জলবায়ুর ভবিষ্যৎ এবং সূর্যের বিবর্তন বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছেন, গাছপালা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সময় বেঁচে থাকবে। প্রায় ১৯০ কোটি (১.৯ বিলিয়ন) বছর পর্যন্ত পৃথিবীতে উদ্ভিদের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
এর আগের কিছু গবেষণায় বলা হয়েছিল, উদ্ভিদের আয়ু মাত্র ১০ কোটি বছর বাকি আছে। আবার কোনো গবেষণায় বলা হয়েছিল ১০০ কোটি বছর। তবে নতুন এই গবেষণা অনেক বেশি আশার আলো দেখাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, উদ্ভিদের ভাগ্য নির্ধারণের সবচেয়ে বড় কারণ হলো সূর্যের ধারাবাহিক পরিবর্তন। সৌরজগতের এই নক্ষত্রটি সময়ের সাথে সাথে আরো উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত হচ্ছে, যা আগামী ১০০ কোটি বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়িয়ে দেবে। গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, আগামী ১৫০ কোটি বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যাবে এবং এরপর উত্তপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি আরো দ্রুত হবে।
তবে শুধু তীব্র তাপমাত্রাই উদ্ভিদের একমাত্র শত্রু নয়। সালোকসংশ্লেষণের জন্য উদ্ভিদের কার্বন ডাই অক্সাইড প্রয়োজন। পৃথিবীর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় যদি বায়ুমণ্ডল থেকে এই গ্যাস দ্রুত ফুরিয়ে যায়, তবে তীব্র গরমে মরার আগেই কার্বনের অভাবে গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাবে। তেমনটি ঘটলে এখন থেকে প্রায় ১৮৪ কোটি বছরের মধ্যেই উদ্ভিদের জীবন শেষ হয়ে যাবে।
অবশ্য গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই হিসাব চূড়ান্ত নয়। বিবর্তনের ধারায় আরো সহনশীল কোনো উদ্ভিদের প্রজাতি তৈরি হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতের কোনো উন্নত সভ্যতা ‘প্ল্যানেটারি ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে পৃথিবীকে আরো দীর্ঘ সময় বসবাসের উপযোগী করে রাখতে পারে।
তবে সবচেয়ে আশাবাদী হিসাব ধরলেও, ২০০ কোটি বছর পার হওয়ার আগেই পৃথিবী উদ্ভিদশূন্য হয়ে পড়বে। অবশ্য তার মানেই জীবনের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়; মাটির গভীরে থাকা অণুজীবগুলো এরপরও আরো প্রায় ১০০ কোটি বছর বেঁচে থাকতে পারে। মানুষের জীবনকালের তুলনায় বনাঞ্চল ও ঘাসহীন এই পৃথিবীর রূপ অনেক দূরের বিষয় হলেও, এই গবেষণা মনে করিয়ে দেয়—মহাবিশ্বের অন্য সব কিছুর মতোই আমাদের গ্রহের জীবনেরও একদিন সমাপ্তি ঘটবে।



