আধুনিক যুগের নারীদের মধ্যে রান্না না করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামী দাঈ ও পাকিস্তানের বরেণ্য আলেম মাওলানা তারিক জামিল। এ সময় রান্না থেকে তাদের ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়াটার ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকও বর্ণনা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) ডেইলি জংগ মাওলানা তারিক জামিলের সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে দেয়া সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনেই মাওলানার মন্তব্য তুলে ধরা হয়।
মাওলানা তারিক জামিল বলেন, নারীরা যে দিন দিন ঘরে রান্না করা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, এটি অস্বাভাবিক ব্যাপার। তাদের এই প্রবণতা শুধু পারিবারিক জীবনের জন্যই শঙ্কার বিষয় নয়; বরং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ভয়াবহ।
পডকাস্টে তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, ‘বর্তমানে নারীদের মধ্যে বাড়িতে রান্না না করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?’- এর উত্তরে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৯৯৮ সালে আমি যুক্তরাষ্ট্র সফর করি। তখন এক চিকিৎসক আমাকে উত্তর আমেরিকার কিছু পরিসংখ্যান দেখিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, এ অঞ্চলে মাত্র এক বছরে ডিপ্রেশনের ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়েছে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলার।
মাওলানা তারিক জামিল বলেন, তখনই যদি এটি এরকম হয়, তাহলে বর্তমানে বিষয়টি কতটা উদ্বেগের!
তার মতে- অপ্রাকৃতিক ও কৃত্রিম খাবারও মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে। ঘরে যখন রান্না না হয়, তখন মানুষ বাইরে ফাস্ট ফুড ইত্যাদি গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, আর অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড গ্রহণের ফলে মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন, ক্রোধ বৃদ্ধি এবং সহনশীলতা হ্রাস পেতে পারে, যা দাম্পত্য সম্পর্ককেও প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং পারিবারিক কলহ ও ডিপ্রেশন বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মাওলানা তারিক জামিল বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আমাদের শক্তি, স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সামর্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য আমাদের জাঙ্ক ফুড পরিহার করতে হবে।
মাওলানা তারিক জামিল বলেন, ‘বাড়িতে চুলা না জ্বলা মানে রোগকে আমন্ত্রণ জানানো।’ এ সময় তিনি বেকারি পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের ডাবল রুটিকেও অস্বাস্থ্যকর আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, এ ধরনের খাবারও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সূত্র : ডেইলি জংগ



