ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাবেচা নিয়ে মুফতি তাকি উসমানীর ফতোয়া

এর পাশাপাশি প্রশ্নকারী অপর একটি অননুমোদিত কোর্স কেনার বিষয়েও নির্দেশনা চান। তিনি জানান, মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া এক ব্যক্তি একটি শিক্ষামূলক কোর্সের উপাদান নকল করে এবং তা পুনরায় বিক্রির জন্য একটি গ্রুপ তৈরি করে। প্রশ্নকারী ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোর্সটি কেনেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মুফতি তাকি উসমানী
মুফতি তাকি উসমানী |ফাইল ছবি

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পাকিস্তানি ইসলামি স্কলার মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী। তিনি জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল এই মুদ্রা দিয়ে যে কোনো ধরনের পণ্য বা সেবা কেনাবেচা ইসলামী আইন অনুযায়ী জায়েজ নেই।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ডেইলি জংগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই ফতোয়ায় মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন সমসাময়িক আরো অনেক আলেম।

ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতামত ও দীর্ঘ পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেয়া এই ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ইসলামী আইনের দৃষ্টিতে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ‘মাল’ (সম্পত্তি বা সম্পদ) হিসেবে গণ্য করা যায় না। কারণ, এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার ডিজিটাল নথি মাত্র। অর্থাৎ শরিয়া আইন অনুযায়ী ক্রিপ্টোর সম্পদের কোনো মর্যাদা নেই।

মুফতি তাকি উসমানী স্পষ্ট করে বলেছেন, লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ইউএসডিটি (টেথার বা কারেন্সি কোড) কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেন ও ইউএসডিটি ব্যবহার করা হোক না কেন, এর মাধ্যমে পণ্য কেনা শরিয়তসম্মত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ফতোয়াটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে হাসান উসমানী। তিনি জানান, ছড়িয়ে পড়া ফতোয়াটি নির্ভরযোগ্য ও সেটা প্রকৃতপক্ষে মুফতি উসমানীই জারি করেছেন।

ডেইলি জংগের প্রতিবেদন অনুসারে, মূলত এক ব্যক্তির লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই ফতোয়াটি দেয়া হয়। ওই ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ক্রিপ্টো টোকেন ও ইউএসডিটি ব্যবহার করে এক বিক্রেতার কাছ থেকে দুটি বই কিনেছেন। এই লেনদেন ধর্মীয়ভাবে বৈধ কি না এবং বৈধ না হলে তার করণীয় কী?

এর পাশাপাশি প্রশ্নকারী অপর একটি অননুমোদিত কোর্স কেনার বিষয়েও নির্দেশনা চান। তিনি জানান, মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া এক ব্যক্তি একটি শিক্ষামূলক কোর্সের উপাদান নকল করে এবং তা পুনরায় বিক্রির জন্য একটি গ্রুপ তৈরি করে। প্রশ্নকারী ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোর্সটি কেনেন।

এই প্রশ্নের জবাবে ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাকাটা অনুমোদিত নয়, তাই প্রশ্নকর্তাকে বই দুটি বিক্রেতার কাছে ফেরত দিতে হবে।

একইভাবে, কপিরাইট বা আইন লঙ্ঘন করে তৈরি করা ওই শিক্ষামূলক কোর্সটি সংগ্রহ করাও অবৈধ। ফতোয়ায় প্রশ্নকারীকে ওই কোর্স থেকে কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল ফরম্যাটে থাকা কোর্সের সব উপাদান ডিভাইস থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সূত্র : ডেইলি জংগ