এপি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উত্তপ্ত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট এড়াতে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো। হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রোপটে দেশটিগুলো লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল এবং ওমান উপসাগরের বন্দরগুলোর দিকে নতুন পাইপলাইন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা জোরদার করেছে। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্যানুযায়ী, কর্মকর্তা ও জ্বালানি সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে অন্তত সাতটি বিশাল পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ প্রস্তাবিত, নির্মাণাধীন ও সমীা পর্যায়ে রয়েছে।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। নতুন প্রস্তাবিত এই বিকল্প পথগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এর এক বিশাল অংশ নিরাপদ পথে ঘুরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে। সৌদি আরব ইতোমধ্যেই তাদের ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে মরুভূমির ভেতর দিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ফুজাইরাহ বন্দর পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অতিরিক্ত পাইপলাইনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। এতে করে ২০২৭ নাগাদ এ পথে দৈনিক আরো ১২ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।
ইরাকও হরমুজের ওপর চাপ কমাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় বসরা তেল টার্মিনাল থেকে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় তুরস্কের জেইহান বন্দর ও সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর পর্যন্ত পাইপলাইন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরি বহনে সম হবে। একইসাথে বসরা থেকে জর্দানের আকাবা বন্দর পর্যন্ত আরেকটি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে। বিকল্প এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই হরমুজের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখা যাবে।



