একদিনেই সড়কে ঝরল ২০ প্রাণ

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ এবং বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা

সিলেট, বগুড়া, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে দু’টি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন এবং বগুড়ায় দু’টি পৃথক দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিকসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে নিহতদের একজন কিশোরগঞ্জের বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুইজন ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন।

Printed Edition
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত দুই বাস : নয়া দিগন্ত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত দুই বাস : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সিলেট, বগুড়া, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে দু’টি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন এবং বগুড়ায় দু’টি পৃথক দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিকসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে নিহতদের একজন কিশোরগঞ্জের বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুইজন ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। সিলেটে আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বগুড়ার দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

সিলেট

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ধানক্ষেতে পড়ে যায় এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৩০ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি হওয়া আরো ৬-৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটের সপ্তম রায় প্রীতম (২২), তিন বছরের শিশু খোজাইফা, কিশোরগঞ্জের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এবং ভৈরবের বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। ওসমানীনগর থানার পুলিশ ও শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠায় এবং লাশ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।

বগুড়া

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর আরো চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১০ জন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

একই দিন বিকেলে সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় আরেক দুর্ঘটনায় একটি মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী নিহত হন। তাদের সাথে থাকা একটি শিশু গুরুতর আহত হয়ে শহীদ জিয়াউর

রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। দুই ঘটনায় বগুড়ায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কাটাখালী এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ রাসেল (২৩) নিহত হন। আহত হন সিএনজির দুই যাত্রী। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করেছে।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বালুবাহী ট্রাকের চালক তুফান দাস (৩১) নিহত হন। আহত হন আরো দুইজন। ফায়ার সার্ভিস প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ট্রাকের কেবিন কেটে চালককে উদ্ধার করলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল থেকে সিলেটগামী সাগরিকা পরিবহনের একটি নৈশকোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে চালক, হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ দিকে বগুড়া ও সিলেটের পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক লসকর মো: তসলিম এক যৌথ বিবৃতিতে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ দিকে সিলেটে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে ওসমানী হাসপাতালে গেছেন মহানগর জামায়াত নেতারা। এ সময় তারা দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজখবর নেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। তারা আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।