ভুয়া আইডি খুলে পাঠ্যবইয়ের মানযাচাই নিয়ে অপপ্রচার

প্রতিকার চেয়ে এনসিটিবিতে চিঠি

এনসিটিবির দরপত্র নথি অনুযায়ী ২০২৭ সালের বই ছাপার কাজ এরইমধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ ও লটে যথা নিয়মেই এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ উঠলে সেটি যেমন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করাও জরুরি।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

ভুয়া আইডি খুলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি চক্র। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) চিঠি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত একটি পক্ষ। এনসিটিবিতে জমা দেয়া আবেদনে বলা হয়েছে, একটি চক্র নতুন বছরের পাঠ্যবই মুদ্রণ, মনিটরিং এবং মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন তুলে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সূত্রমতে সম্প্রতি ‘আর আর প্রিন্টার্স’ এবং ‘জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ’ নামের দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া আইডি খুলে ২০২৭ সালের পাঠ্যবই নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট এবং জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে এমন অসত্য তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘আর আর প্রেস গ্রুপ’ নামে ভুয়া একটি আইডি খুলেছেন শেখ ট্রেডিংয়ের অফিস সহায়ক সাকিব। নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে এই সাকিবের নিজের নামে কেনা গ্রামীণ মোবাইল সিম দিয়ে সে এই ভুয়া আইডিটি খুলেছে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। জন্ম তারিখ পয়লা এপ্রিল ২০০২ ইং। পিতার নাম নূরুল আমিন এবং মা শাহানা বেগম।

এ দিকে এই ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচারের মূল হোতাকে চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তির দাবি ও প্রতিকার চেয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর এনসিটিবিতে আবেদন করেছেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির স্বত্বাধিকারী শেখ বেলাল হোসেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন ধরে এনসিটিবির বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণকাজে পিডিআই তথা Pre-Delivery Inspection) Inspection Agent হিসেবে কাজ করে আসছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মানসম্মতভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আবেদনের মূল অভিযোগে আরো বলা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিটিবির প্রেস গ্রুপের পেজে R R Printers ও ‘জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ’ নামের দু’টি অডিট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদনকারী এবং তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজ- বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহ- বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চিঠিতে আবেদনকারী দাবি করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে অনুসন্ধান করে তিনি চিহ্নিত এই গোষ্ঠী এবং এই মিথ্যা ও অপপ্রচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার দাবি, শেখ ট্রেডিং অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসেসের কর্মকর্তা ‘রনি’ ও ‘মো: শাকিব’ নামের ব্যক্তিরা মোবাইল সিম ব্যবহার করে তার প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আর এর সপক্ষে বেশ কিছু দালিলিক কাগজপত্রও আবেদনের সাথে সংযুক্ত করে এনসিটিবিতে জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে এনসিটিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহ সরকারের একটি বড় জাতীয় কর্মসূচি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার জন্য এনসিটিবি এরইমধ্যে একাধিক দরপত্র প্রক্রিয়া চালিয়েছে। সরকারি ই-জিপি নথিতে দেখা যায়, প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য আলাদা দরপত্র দেয়া হয়েছে। অনেক প্রেস ইতোমধ্যে পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজও বেশ এগিয়ে নিয়েছে।

এনসিটিবির দরপত্র নথি অনুযায়ী ২০২৭ সালের বই ছাপার কাজ এরইমধ্যে বিভিন্ন প্যাকেজ ও লটে যথা নিয়মেই এগোচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ উঠলে সেটি যেমন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করাও জরুরি। শেখ বেলাল হোসের তার আবেদনে মূলত তদন্ত করে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়ার কাজে এনসিটিবির সহযোগিতা চেয়েছেন।

বেলাল হোসেন ও সংশ্লিষ্টদের দাবি এনসিটিবির এখন দায়িত্ব হবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নথিপত্র, দরপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ডিজিটাল তথ্য যাচাই করা।

কারণ এখানে বিষয়টি শুধু দুই প্রতিষ্ঠানের বিরোধ নয়- এর সাথে জড়িয়ে আছে সরকারি অর্থ, পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো বিনামূল্যের বই পৌঁছে দেয়ার প্রশ্ন।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা এই প্রতিবেদককে জানান, ভুয়া আইডি খুলে কেউ কোনো অভিযোগ দিলে সেটা আমলে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি সরাসরি বা অন্য কোনো মাধ্যমে আমাদের কাছে কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে অবশ্যই আমরা সেটি বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান করব। আমাদের প্রধান টার্গেট হলো মানসম্পন্ন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া।

আর এ জন্যই আমাদের একাধিক টিম দিনরাত কাজ করছে। চেষ্টা করছি সবার সহযোগিতা নিয়ে অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় এবার আমরা ভালো বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেবো।