অ্যাক্সিওস
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ চলতি সপ্তাহের শুরুতে মস্কোতে তার এক গোপন সফরকালে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দেন। সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি বা সমঝোতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় র্যাটক্লিফ এবারই প্রথম ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত হলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইউক্রেনের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পুতিনকে রাজি করাতে রাশিয়ার গোয়েন্দা প্রধানেরা সাহায্য করতে পারেন কিনা তা যাচাই করাও র্যাটক্লিফের এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা মস্কোতে র্যাটক্লিফের আলোচনা এবং ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের এই প্রস্তাব সম্পর্কে জেলেনস্কিকে অবহিত করেন। ট্রাম্প প্রশাসন আগেও এ ধরনের উদ্যোগের কথা ভেবেছে। জেলেনস্কি এতে সম্মতি জানালেও পুতিন প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত মঙ্গলবার মস্কোতে এক গোপন সফরে যান র্যাটক্লিফ এবং সেখানে তার রুশ সমকক্ষ- এসভিআর বৈদেশিক গোয়েন্দা প্রধান সের্গেই নারিশকিন এবং এফএসবি পরিচালক আলেকজান্ডার বোর্তনিকভের সাথে বৈঠক করেন।
ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানান, র্যাটক্লিফের এই সফর ছিল একটি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’। ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা না চালানোর বিষয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জেলেনস্কিকে জানান, মস্কোতে র্যাটক্লিফ শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, র্যাটক্লিফ বোর্তনিকভকে যুদ্ধ পরিস্থিতির ‘একটি হতাশাজনক মূল্যায়ন’ দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আগে রাশিয়াকে একটি চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। র্যাটক্লিফ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বোর্তনিকভ একজন গঠনমূলক ব্যক্তি যিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় চালু করতে সাহায্য করতে পারেন। তবে সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা পুতিনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাদের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যা নির্দেশ করে পুতিন যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন। জেলেনস্কির উপ-চিফ অব স্টাফ পাভলো পালিসা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন যে, পুতিন তার সামরিক বাহিনীকে উত্তর ইউক্রেনে অভিযানের জন্য বেশ কয়েকটি কৌশলগত রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে কিয়েভ ও চেরনিহিভকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলতে থাকা আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। গত কয়েক মাসে হোয়াইট হাউজের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার রুশ ও ইউক্রেনীয় আলোচনাকারীদের সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। কিন্তু তাতে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ কিরিলো বুদানভ বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সাথে স্থগিত আলোচনা আগামী সেপ্টেম্বরে আবার শুরু হতে পারে। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে সঠিক ও প্রয়োজনীয় মনোভাব বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন কী করা দরকার এবং কী অর্জন করা আবশ্যক সে বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’



