ঋণের ব্যয় এখনো চড়া, তবে স্থিতির ইঙ্গিত ব্যাংকিং খাতে

সুদের হার ও কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদের হার এখনো ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। নীতিগত সুদহার কমার ইঙ্গিত মিললেও এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতে। ফলে নতুন বিনিয়োগের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না, আর কর্মসংস্থান সৃষ্টিও রয়ে গেছে চাপের মুখে। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সুদের হার বৃদ্ধির দীর্ঘ পর্ব শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঋণের ব্যয় ধীরে ধীরে কমতে পারে, যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন প্রশ্ন- এই স্থিতি কত দ্রুত বাস্তব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদের হার এখনো ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। নীতিগত সুদহার কমার ইঙ্গিত মিললেও এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতে। ফলে নতুন বিনিয়োগের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না, আর কর্মসংস্থান সৃষ্টিও রয়ে গেছে চাপের মুখে। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সুদের হার বৃদ্ধির দীর্ঘ পর্ব শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঋণের ব্যয় ধীরে ধীরে কমতে পারে, যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন প্রশ্ন- এই স্থিতি কত দ্রুত বাস্তব অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে।

এক বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দেশের ব্যাংকিং খাতের সুদের হার কি অবশেষে স্থিতিশীল হওয়ার পথে? বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত ভারিত গড় সুদের হারের (ডব্লিউএআইআর) তথ্য অন্তত সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে আমানত ও ঋণের গড় সুদ-উভয় ক্ষেত্রেই সামান্য নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। একই সাথে কমেছে ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান। পরিবর্তনের পরিমাণ মাত্র কয়েক বেসিস পয়েন্ট হলেও এটি কেবল একটি মাসিক ওঠানামা নয় বরং গত এক বছরের কড়াকড়ি মুদ্রানীতির পর ব্যাংকিং বাজারে ভারসাম্য ফিরে আসার একটি সম্ভাব্য সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত এক বছরে ধারাবাহিকভাবে সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে। নীতিগত সুদহার বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক সুদের হার ব্যবস্থা চালু, তারল্য ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি এবং ব্যাংকগুলোর অর্থের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ-এসব পদক্ষেপের ফলে আমানত ও ঋণের সুদ দ্রুত বেড়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ কমানো, ভোক্তা চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা এবং মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা। তবে উচ্চ সুদের এই পরিবেশে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে শিল্প, এসএমই ও বেসরকারি বিনিয়োগ খাতের ওপর। অনেক উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প স্থগিত রাখেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়ের কারণে উৎপাদন সম্প্রসারণে সতর্ক অবস্থান নেয়। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

সামান্য পরিবর্তন কিন্তু বড় বার্তা

মে মাসের ডব্লিউএআইআর প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্বিক আমানতের গড় সুদের হার এপ্রিলের ৬.২৪ শতাংশ থেকে মে মাসে ৬.২২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে সার্বিক ঋণের গড় সুদের হার ১১.৯৬ শতাংশ থেকে ১১.৯২ শতাংশে কমেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ইন্টারেস্ট রেট স্প্রেড ৫.৭২ শতাংশ থেকে ৫.৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংখ্যার হিসাবে এই পরিবর্তন মাত্র ২ থেকে ৪ বেসিস পয়েন্ট, কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী সুদের পর প্রথমবারের মতো প্রায় সব সূচকেই একযোগে নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি ইঙ্গিত করে যে সুদের হার সম্ভবত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে এখন স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার কমার অর্থ এই নয় যে বাজারে অর্থের দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে। বরং এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই ধীরে ধীরে সুদের হারকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে আনতে চাইছে। যদি মূল্যস্ফীতি আগামী মাসগুলোতেও নি¤œমুখী থাকে এবং বৈদেশিক খাত, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে, তাহলে নীতিগত সুদহারেও ভবিষ্যতে সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

আমানতের সুদ কমছে, বদলাচ্ছে ব্যাংকের কৌশল

মে মাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে মেয়াদি আমানতে। ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্টের (এফডিআর) গড় সুদের হার ৯.২০ শতাংশ থেকে ৯.১৪ শতাংশে এবং ডিপোজিট পেনশন স্কিমের (ডিপিএস) সুদের হার ৯.৫৫ শতাংশ থেকে ৯.৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও এই হ্রাস খুবই সীমিত, তবুও এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে। গত কয়েক মাসে আমানত আকর্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোকে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হয়েছে। এর ফলে তাদের কস্ট অব ফান্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এখন যখন মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলছে, তখন ব্যাংকগুলো নতুন মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে সুদের হার সামান্য কমিয়ে সেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। একই সাথে বাজারে তারল্যের পরিস্থিতি, আমানত সংগ্রহের প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির প্রত্যাশাও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

তবে আমানতের সুদ কমার আরেকটি দিকও রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার যদি আমানতের সুদের চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে প্রকৃত অর্থে আমানতকারীর সঞ্চয়ের ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে ব্যাংকগুলোকে এমন একটি ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যাতে এক দিকে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কমানো যায়, অন্য দিকে আমানতকারীরাও সঞ্চয়ে আগ্রহ হারিয়ে না ফেলেন। এ কারণেই অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সুদের হার সমন্বয়ের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে আরো নিয়ন্ত্রণে আনা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার।

ঋণের সুদে সামান্য স্বস্তি, কিন্তু বিনিয়োগে চাপ কাটেনি

আমানতের সুদের মতো ঋণের সুদেও মে মাসে সামান্য নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও তা শিল্প ও ব্যবসা খাতের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডব্লিউএআইআর অনুযায়ী, মে মাসে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক ঋণের গড় সুদের হার এপ্রিলের ১১.৯৬ শতাংশ থেকে ১১.৯২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ, এক মাসে কমেছে মাত্র ৪ বেসিস পয়েন্ট।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহৎ শিল্প ঋণের সুদ ১২.১৫ শতাংশ থেকে ১২.১২ শতাংশে, এসএমই ঋণের সুদ ১২.৬১ শতাংশ থেকে ১২.৫৮ শতাংশে এবং কৃষি ঋণের সুদ ১১.৬৮ শতাংশ থেকে ১১.৬৫ শতাংশে নেমেছে। পরিবর্তনের মাত্রা সামান্য হলেও এটি ইঙ্গিত দেয় যে ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ঋণের মূল্য সমন্বয় করছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ১২ শতাংশের কাছাকাছি ঋণের সুদ এখনো উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য ব্যয়বহুল। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত, যেখানে উদ্যোক্তারা মূলধনের জন্য ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে প্রায় ১২.৬ শতাংশ সুদ নতুন বিনিয়োগের গতি শ্লথ করতে পারে। উচ্চ সুদের কারণে অনেক উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প স্থগিত রাখছেন, আবার কেউ কেউ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, সুদের হার কমার সূচনা হয়েছে, কিন্তু তা এখনো বিনিয়োগবান্ধব পর্যায়ে পৌঁছায়নি। মূল্যস্ফীতি আরো কমে এলে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদহার শিথিল করার সুযোগ পেলে তবেই শিল্প ও উৎপাদন খাত প্রকৃত স্বস্তি পাবে।

বেসরকারি ব্যাংক : প্রতিযোগিতার মধ্যেও মুনাফার ভারসাম্য

দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। মে মাসে এ শ্রেণীর ব্যাংকগুলোর গড় আমানতের সুদ ৬.৬১ শতাংশ থেকে ৬.৫৮ শতাংশে এবং ঋণের গড় সুদ ১২.২০ শতাংশ থেকে ১২.১৬ শতাংশে নেমেছে। ফলে স্প্রেড প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৫.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এপ্রিলের তুলনায় আমানতের ব্যয় তিন বেসিস পয়েন্ট এবং ঋণের সুদ চার বেসিস পয়েন্ট কমলেও সুদের ব্যবধান প্রায় একই থাকায় বোঝা যায়, ব্যাংকগুলো নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বাজারে আমানত সংগ্রহের তীব্র প্রতিযোগিতা, উচ্চ খেলাপি ঋণের ঝুঁকি এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে আমানতের সুদ আরো কমাতে গেলে গ্রাহক ধরে রাখা এবং বিকল্প বিনিয়োগের সাথে প্রতিযোগিতা করার চ্যালেঞ্জও তাদের সামনে রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক : কম খরচের আমানতের সুবিধা

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চিত্র তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। মে মাসে এ শ্রেণীর ব্যাংকগুলোর গড় আমানতের সুদ ৫.৭৮ শতাংশ, যা বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সময়ে ঋণের সুদ ১১.৪২ শতাংশ এবং স্প্রেড ৫.৬৪ শতাংশ।

সরকারি আমানত, স্বল্প ব্যয়ের কারেন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে তারা উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের চাপ থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকে।

তবে কম তহবিল ব্যয় থাকা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, পরিচালন দক্ষতার সীমাবদ্ধতা এবং মূলধন ঘাটতির মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো এখনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কম সুদের আমানত নয়, বরং ঋণের গুণগত মান উন্নয়নই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার মূল শর্ত।

বিদেশী ব্যাংক : সর্বোচ্চ স্প্রেডের রহস্য

মে মাসেও দেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড ধরে রেখেছে বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তাদের গড় আমানতের সুদ মাত্র ১.৯৬ শতাংশ, যেখানে ঋণের গড় সুদ ১০.৩৬ শতাংশ। ফলে স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৮.৪০ শতাংশ।

এই উচ্চ স্প্রেডের পেছনে রয়েছে তাদের ভিন্নধর্মী ব্যবসায়িক মডেল। বিদেশী ব্যাংকগুলো মূলত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বড় করপোরেট গ্রাহক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনির্ভর ব্যবসাকে অর্থায়ন করে। একই সাথে তাদের সিএএসএ আমানতের অনুপাত বেশি, শাখা নেটওয়ার্ক সীমিত এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। ফলে স্বল্প ব্যয়ে তহবিল সংগ্রহ করে তারা উল্লেখযোগ্য স্প্রেড ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই স্প্রেডকে শুধু অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত কম তহবিল ব্যয়, উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চমানের ঋণ পোর্টফোলিওর প্রতিফলন।

বিশেষায়িত ব্যাংক : মুনাফার চেয়ে উন্নয়নই অগ্রাধিকার

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক দর্শন অন্য তিন ধরনের ব্যাংকের তুলনায় ভিন্ন। মে মাসে এ শ্রেণীর ব্যাংকগুলোর গড় আমানতের সুদ ৭.৩৩ শতাংশ, ঋণের সুদ ১০.৬৪ শতাংশ এবং স্প্রেড ৩.৩১ শতাংশ, যা চার ধরনের ব্যাংকের মধ্যে সর্বনি¤œ।

এই কম স্প্রেডের কারণও কাঠামোগত। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো মূলত কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সামাজিক অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে ঋণ বিতরণ করে। তাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন নয় বরং উন্নয়নমূলক অর্থায়নের মাধ্যমে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।

এ কারণে তাদের কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু স্প্রেড বা মুনাফা নয় বরং কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং উন্নয়নমূলক প্রভাবও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

ব্যাংকগুলোর স্প্রেডের তুলনামূলক চিত্র

মে মাসে চার ধরনের ব্যাংকের স্প্রেড বিশ্লেষণ করলে একটি স্পষ্ট কাঠামোগত পার্থক্য দেখা যায়। বিদেশী ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৮.৪০ শতাংশ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৫.৬৪ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকের ৫.৫৮ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের ৩.৩১ শতাংশ।

অর্থাৎ, বিদেশী ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে স্প্রেডের পার্থক্য ৫.০৯ শতাংশ পয়েন্ট। এই ব্যবধান কেবল সুদের হারের পার্থক্য নয় বরং ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের কৌশল, গ্রাহকভিত্তি, ঝুঁকি গ্রহণের ধরন এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের মৌলিক ভিন্নতাকেই তুলে ধরে।